শিক্ষক যখন জনপ্রতিনিধিঃ প্রধান শিক্ষকের চেয়ার বর্গা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন মেম্বারী!

 

॥ বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি ॥

একসঙ্গে দুই সরকারি দায়িত্বে সূর্য্যলাল ত্রিপুরা তিনি খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বোয়ালখালী (সদর) ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার।আবার রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও। মেম্বার হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও বিদ্যালয়ে বসতে কেন যেন অনীহা। বিদ্যালয়ের নিজের চেয়ারে এক বর্গা শিক্ষককে বসিয়ে দিয়ে একই সঙ্গে সরকারি দুই পদের দায়িত্ব দিব্বি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। দীঘিনালা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা অনুযায়ী সূর্য্যলাল ত্রিপুরা বোয়ালখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাজেন্দ্র কার্বারিপাড়ার ভোটার। বাড়ি স্থানান্তর করে বর্তমানে তিনি বাস করছেন উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ভৈরফা নোওয়াপাড়ায়। জানা যায়, দীঘিনালার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে মেম্বারের দায়িত্ব পালন করলেও পার্বত্য এলাকার এক জেলার বাসিন্দা হয়ে অন্য জেলায় চাকরিতে আবেদন করারই সুযোগ নেই। সেখানে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হয়েও অন্য জেলায় কিভাবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হলেন, এটি বিস্ময়ের। জানা গেছে, সূর্য্যলাল ত্রিপুরা রাঙামাটির স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে ভুয়া সনদ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাঘাইছড়ির একাধিক ব্যক্তি জানায়, পার্বত্য এলাকায় এক জেলার বাসিন্দা অন্য জেলায় চাকরির জন্য আবেদনের সুযোগ নেই। এ কারণে সূর্য্যলাল স্থায়ী বাসিন্দার সনদ জালিয়াতি করেছেন।

সূর্যলালের  চাকরিস্থল রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম এলাকা উলংকর থলছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনি। সাজেক পর্যটন এলাকা থেকে হেঁটে বিদ্যালয়টিতে যেতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। দুর্গম এলাকা বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদারকিও কম। আর এ সুযোগই কাজে লাগিয়েছেন সূর্য্যলাল।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে সাজেকে অন্য আরেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে সূর্য্যলালের ছবি দেখালে তিনি তাঁকে থলছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে শনাক্ত করেন। একই সঙ্গে সূর্য্যলাল যে দীঘিনালার মেম্বার, সেটি তাঁরও জানা। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সূর্যলাল ত্রিপুরার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি শিকার করে প্রভাবশালী কিছু লোকের মাধ্যমে মিমাংসা করতে চান এবং খাগড়াছড়ি যেতে বলেন,  পরে খোজ নিয়ে জানা যায় তিনি খাগড়াছড়ি জেলা কৃষক লীগের  সাংগঠনিক দায়িত্বেও রয়েছেন।

থলছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিনয় ত্রিপুরার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, সেদিনও প্রধান শিক্ষক কর্মস্থলে অনুপস্থিত। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ মোট শিক্ষক রয়েছেন চারজন। প্রধান শিক্ষক দু-চার মাসে দু-একবার বিদ্যালয়ে হাজির হলেও অন্য সময় থাকেন অনুপস্থিত। অন্য তিন শিক্ষক মিলে প্রধান শিক্ষকের কাজগুলো চালিয়ে নেন বলেও জানান বিনয়। তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়টি আগে বেসরকারি থাকলেও ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয়করণ হয়।সাজেক ইউনিয়নের মেম্বার জুপ্পুইথাং ত্রিপুরা জানান, শিক্ষকতা করার জন্য এ এলাকায় শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন চাকমা সম্প্রদায়ের লোকের অভাব নেই। তবে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোক নেই। বিদ্যালয়টি বেসরকারিভাবে স্থাপনের পর দীঘিনালার সূর্য্যলাল ত্রিপুরাকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।  উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ আহসান হাবিব জিতু বলেন বিষয়টি আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত করে  শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিবো।

থলছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রবামোহন ত্রিপুরাকে ফোন করলে ধরেন তাঁর ছেলে কলিন ত্রিপুরা। কলিন জানান, তাঁর বাবা জুমে কাজে গেছেন। এ বিষয়ে কথা হয় বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক শইয়ব ত্রিপুরা  নামে স্থানীয় এক যুবকের সাথে সে জানায় বিদ্যালয়টি শুরুতে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় পরিচালিত হলেও পরে দীর্ঘদিন ইউএনডিপির অর্থায়ানে চলে যখন জাতীয়করণ হবে তখন টাকার বিনিময়ে পরিচালনা কমিটি সূর্যলাল ত্রিপুরা কে নিয়োগ দেয়, কিন্তু সে ঠিকমত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে না। উপজেলা শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদিনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি নতুন যোগদান করেছেন বলে বিষয়টি তার জানা নেই তাই  খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।