ব্রেকিং নিউজ

৩৫ বছরেও হয়নি ভূষণছড়া গণহত্যার বিচার!রাঙামাটিতে শোক সভা,কবর জিয়ারত ও মানববন্ধন

॥ আলমগীর মানিক ॥

শোকসভা, কবর জিয়ারত, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার মধ্যদিয়ে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পালিত হয়েছে ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস। ১৯৮৪ সালের এই দিনে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া চার শতাধিক নীরিহ বাঙ্গালী নারী-পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যার পরবর্তী দীর্ঘ ৩৫ বছরের বিচার পায়নি নিহতদের স্বজনরা। নিহতের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটিতে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করে হত্যাকারিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছে পাহাড়ের বাঙ্গালী সংগঠনগুলো।

শুক্রবার ৩১মে সকালে ভূষণছড়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নিহতদের স্মরণে শোকসভা ও কবর জিয়ারত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা। উক্ত শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য অথিতিবৃন্দ। শোকসভা পরবর্তী নিহতদের কবর জিয়ারত করেন নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, ভূষণছড়া গণহত্যার বিচারের দাবীতে ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল প্রকার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, গুম, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রায় পদক্ষেপ গ্রহন এবং প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন করার দাবিতে রাঙামাটি শহরে মানববন্ধন করেছে পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৩১ মে) সকালে রাঙ্গামাটির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে বিভিন্ন ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে অনুষ্ঠিত ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি নাজিম আল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভূষণছড়া গণহত্যাসহ অসংখ্য বর্বরোচিত ঘটনার শিকার হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালীরা। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর কোন বিচার করা হয়নি। উল্টো পাহাড়ে প্রতিনিয়ত অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ পাহাড়ী ও বাঙ্গালী উভয় এই সকল সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হত্যা, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ। তাই পাহাড়ে কাঙ্খিত শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনতে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানী, হত্যা, গুম, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এখনই রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, কাগজে কলমে শান্তিবাহিনী না থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দৌরাত্ম থেমে নেই। তাদের হাতে বাঙ্গালীরা যেমন হত্যার শিকার হচ্ছে, তেমনি নিহত হচ্ছে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীগুলোর মানুষজন। এইসব সশস্ত্র সংগঠনগুলো পাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠীকে কোণঠাসা করে রেখেছে। তারা এখন পাহাড়ের সাধারণ মানুষের কাছে মুর্তিমান আতংক। কখন কার উপর তারা আক্রমন চালাবে তা নিয়ে আতংকে থাকে প্রতিনিয়ত পাহাড়ের সাধারণ মানুষ।

তাই পার্বত্য এলাকায় শান্তি আনয়নের জন্য অবিলম্বে ভূষণছড়া গণহত্যাসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার ও প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনে সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি। তা না হলে যেকোন সময় বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে জানান বক্তারা।