ব্রেকিং নিউজ

কালভার্ট এখন মৃত্যুফাঁদ!

॥ ওমর ফারুক সুমন ॥

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় এলজিইডি কর্তৃক তৈরি একটি কালভার্ট এখন মরণ ফাঁদ দেখার যেন কেউ নেই, উপজেলা প্রোকৌশলীকে বার বার বলেও কোন কাজ হয় নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। উপজেলা সদর ও চৌমুহনী চত্তরের আশপাশে এলজিইডির অর্থায়নে তৈরিকৃত বেশ কয়েকটি কালভার্ট নিয়েই রয়েছে অভিযোগ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় কালভার্ট তৈরির পর দুপাশে মাটি ভরাটের কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা করেনি ফলে মূল সড়ক থেকে কালবার্টের উচ্চতা কোন কোন জায়গায় প্রায় এক দেড় ফুট ফাড়াক এতে গাড়ী চলাচলে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে গাড়ীর চালক ও যাত্রীদের, কালভার্ট তৈরিতে মাটি খুঁড়ে সড়কের উপর রাখায় বৃষ্টির পানিতে ভিজে কাদায় একাকার। এছাড়াও এজিইডি কর্তৃক সড়ক সংস্কারেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। সড়ক সংস্কারের নামে সড়কের মধ্যখানে এবড়োথেবড়ো ঢালাই দিয়ে সড়কের সৌন্দর্য্য নষ্ট করা হয়েছে, এসব উচু অংশে গাড়ীর চেসিস লেগে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।

উপজেলা সদরের চৌমুহনী থেকে শুরু করে মাদ্রাসা পাড়া সড়কে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান ও বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফর আলী খানের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তাঁরা ঠিকাদারের উপর দায় চাপিয়ে দায় সেরেছেন। অভিযোগ রয়েছে কাজটি তদারকির দায়িত্ব এলজিইডির থাকলেও সঠিক ভাবে তদারকি করা হয়নি তাই ঠিকাদার তার ইচ্ছে মতই অনিয়ম করে কাজ সম্পূর্ণ করেছে।

কাজের তদারকির বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে তাই আমরা কাজের সঠিক তদারকি করতে পারি না, তা ছাড়া পাহাড়ী এলাকায় কাজ হলে নানা সমস্যার কারণে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারি না। ফলে কাজের মান শতভাগ নিশ্চিত করা যায়না।

মোঃ জহিরুল ইসলাম নামে একজন মোটর সাইকেল চালক বলেন উপজেলা সদরে কাজের এই অবস্থা হলে আরো দূর্গম অঞ্চলে কাজের কি অবস্থা তা চৌমুহনী রাজা ফার্মেসির সামনে কালভার্টটি দেখলেই বোঝা যায়। বাঘাইছড়ি উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন বাঘাইছড়িতে এখন ঠিকাদারদের স্বর্ণযুগ চলছে, নিজেদের ইচ্ছেমতই হচ্ছে সকল কাজ নেই কোন তদারকি। কাজ শেষ করার পূর্বেই পেয়ে যান বিল, তাই কোন রকম নিয়ম-নীতির ধারে কাছেও নেই। বাঘাইছড়িতে চলমান কাজের তালিকা টেন্ডার এবং ঠিকাদারের নামের তালিকাসহ এই সংক্রান্ত কোন তথ্যই দেয়নি বাঘাইছড়ি এলজিইডি অফিস ফলে উক্ত কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম, ও ঠিকাদারের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সরকারী টাকায় তৈরি এসব কাজের সঠিক তদারকি না থাকায় এসব কাজের মান নিয়েও নানা জল্পনাকল্পনা রয়েছে সর্বমহলে।