নিখোঁজের ২০দিন পর ফেরিওয়ালার লাশ উদ্ধারঃ আটক ২ ম্রো!

॥ থানচি প্রতিনিধি ॥

বান্দরবানে থানচিতে  বিগত এপ্রিল মাসে নিখোঁজের ২০ দিন পর ফেরিওয়ালার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে দুই যুবককে। আইয়ুব চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজানের মৃত গোলাম সুবহানের ছেলে। ৩রা জুন সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার চমি পাড়ার কাছের একটি পাহাড়ি ঝিরি থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত পনের বছর ধরে তিনি জেলার থানচি উপজেলার বিভিন্ন দূর্গম পাড়ায় নানা ধরনের কসমেটিক ও চুড়ি ফিতা বিক্রি করে আসছিলেন। বিগত ১৩ মে ২০১৯ তারিখে তার পরিবারের সাথে মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয়েছিল । পরে পরিবারের কোন প্রকার মোবাইল ফোনে সংযোগ না পাওয়ায় লোহাগাড়া থানা একটি সাধারণ ডায়রি করেন।  মোবাইল ফোনে কল ট্র্যাক করে তার অবস্থান পাওয়া যায় থানচির গহীন অরণ্যে। থানচি থানা পুলিশ দেড় মাস যাবৎকাল পর্যন্ত অনুসন্ধানের তথ্য সংগ্রহের পর ২রা জুন রবিবার বিকাল ৩টায় সন্দেহজনকভাবে দুইজন ম্রো যুবককে আটক করে ।

আটককৃতদের তথ্য মতে সোমবার থানচি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইরুল হক’র নেতৃত্বে অভিযান চালালে নিখোঁজ ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। আটককৃতরা হলেন  থানচি সদর ইউনিয়নের চমি ম্রো কারবারী পাড়া বাসিন্দা  চাই অং পা ম্রো  (৩০), ত্য়ারু ম্রো (২৪) ।

থানচি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইরুল হক জানান, গত ১২ মে নিহত ফেরিওয়ালা মোহাম্মদ আইয়ুব ঘর থেকে বের হয়ে মালামাল বিক্রির উদ্দেশ্যে থানচির চমি পাড়ায় যায়। সেখানে ম্রো সম্প্রদায়ের একটি উৎসবে মালামাল বিক্রি করে সে। পরে ১৪ মে থেকে তার আর কোন খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবারের সদস্যরা।

তিনি আরো জানান, তার ভাই মোহাম্মদ আক্কাস থানচি থানায় এসে নিখোঁজের অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ সন্দেহভাজন চমি পাড়ার চাই অং পা ও তাইরু ম্রোকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আজ সকালে চমি পাড়ার কাছে পাহাড়ি একটি ঝিরি থেকে নিহত ফেরিওয়ালার লাশ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত্রের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।