পিতা-মাতার পরকীয়ায় দু’কূল হারালো তিন পাহাড়ি শিশু!

॥ আলমগীর মানিক ॥

পিংকি আর মিলনের সংসার আলাদা; কিন্তু মন বাঁধা পড়েছে এক রশিতে। নিজের ‘ভালোবাসা’র পরিণতি দিতে অজানার উদ্যেশ্যে পাড়ি দিয়েছেন দু’জন। পেছনে ফেলে গেছেন সংসার, সমাজ আর রাষ্ট্রীয় আইন। অথচ আড়াই বছর বয়সী একমাত্র ছেলে পিকাসু চাকমা এখন এই ‘মায়ের ভালোবাসা’র জন্যই নাকাল।

শুক্রবার সকালে রাঙামাটির সুবলং বাজার এলাকায় ঘটেছে এমন ঘটনা। তবে গতকাল (১৬ জুন) বিকেলে বরকল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন পিংকির স্বামী শ্রীপন চাকমা(কোকিল মনি)। অন্যদিকে অভিযুক্ত মিলন চাকমা’র স্ত্রী আর ৯ ও ৭ বছরের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। বরকল থানার ওসি মফজল আহমদ বলেন, ‘বউ ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগটি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুবলং ফাঁড়িতে পাঠানো হয়েছে’।

শ্রীপন চাকমা জানান, স্ত্রী পিংকি চাকমা(২৩) ও আড়াই বছর বয়সী ছেলেকে নিয়েই ছিমছাম সংসার তার। স্বল্প আয়ের কারণে পরিবার নিয়েই রঙগাছছড়ি এলাকায় বরকল উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সন্তোষ চাকমার বাগান পাহারার কাজ করছিলেন। মা না থাকায় ছেলেকে নিয়ে এখন মহা ফাঁপড়ে পড়েছি। সারাদিন সে মা মা বলে ডেকে চলছে।

গত শুক্রবার সাপ্তাহিক হাটের দিন সকালে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সুবলং বাজার হয়ে পাশ্ববর্তি হাজাছড়া গ্রামের শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় উঠে কিন্তু ‘দোকানে ছাতা ফেলে এসেছি’ বলে কৌশলে ছেলে ও স্বামীকে নৌকায় রেখেই পালিয়ে যান পিংকি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে শেষে শ্বশুর বাড়ির পরিবর্তে বাগানেই ফেরত যেতে হয়েছে তাকে- যোগ করেন শ্রীপন।

তিনদিনেও স্ত্রীর খোঁজ না পেয়ে গতকাল বিকেলে বরকল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন শ্রীপন। এতে প্রতিবেশি মিলন চাকমা(৩১)র বিরুদ্ধে পিংকি চাকমাকে ‘ভাগিয়ে নেয়ার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত মিলন চাকমাও সেখানে শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। একই বাগানে কাজ করার সুবাদে পিংকির সাথে তার ‘হৃদ্যতা’ তৈরি হয়। মিলন চাকমা সুবলং এলাকার চাপ্পিয়াছড়া গ্রামের লক্ষী চন্দ্র চাকমার ছেলে। তবে বিষয়টি জানতে মিলন ও পিংকির মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বরকল উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সন্তোষ চাকমা বলেন, ‘ শ্রীপন স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমার বাগানে কাজ করে। মিলন চাকমাও শ্রমিকের কাজ করে সেখানে। শুক্রবার থেকেই শ্রীপনের স্ত্রী পিংকি ও মিলন চাকমাকে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে দু’জনই একসঙ্গে পালিয়েছে। এতে দুটি পরিবারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে’।