বাঘাইছড়িতে সড়ক নির্মাণে এলজিইডির ৩ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকার ব্যাপক দুর্নীতি!

॥ বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি ॥
বাঘাইছড়িতে ১.৬৬ থেকে ৫.৪ কিলোমিটার সড়ক পথের কার্পেটিং কাজের শুরুতেই অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। কাজে নিম্নমানের পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে। ইউটিমং লাইসেন্সে প্রায় তিন কোটি ৫৭ লক্ষ টাকার এ কাজ করছেন ঠিকাদার জসিম ও তার ভাই গিয়াস উদ্দিন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরের তালুকদার পাড়া হতে রাবার বাগান এলাকা পর্যন্ত স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ কাজ বাস্তবায়নে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। সাইট প্রকৌশলী বা কার্যসহকারীদের কোন প্রকার তদারকি ছাড়াই মনগড়া কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিম্নমানের পাথর ও নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে এবং পোড়ানো হচ্ছে অবৈধ কাঠ। ঠিকমতো মিক্সার না করেই কার্পেটিং এর কাজ করা হচ্ছে এতে করে সারোয়াতলী ইউনিয়ন ও আমতলী ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক পথের কার্পেটিং উঠে গেলে সড়ক পথ অনুপোযোগী হয়ে পড়ে এতে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ এর ভিত্তিতে কাজের স্থানে গেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় এবং নিম্নমানের বিটুমিনগুলো পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে রক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিম্নমানের কাজ ও বিটুমিন ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদার গিয়াস উদ্দিনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন, জঙ্গলে পড়ে থাকা বিটুমিন এর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন এগুলি ইঞ্জিনিয়ার দেখেছে এই বিটুমিনগুলো কাজের ষ্টিমিটে ধরা রয়েছে তাই আমরা এগুলো দিয়ে কাজ করছি কাজের স্টিমিট দেখতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন ছোঁড়েন আপনি স্টিমিট দিয়ে ঠিকাদারি করবেন কিনা?
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল হক তালুকদার বলেন, কাজের শুরু থেকেই এই অনিয়মের কথা তাদের বললেও তারা কোন কর্ণপাত করেননি। তাই তিনি এই কাজের যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানকে অবহিত করলে তিনি লোকবলের অভাব তাই ঠিকাদাররা দুর্নীতি করার সুযোগ পাচ্ছে বলে দাবি করেন এবং তিনি প্রতিবেদকের সামনেই ঠিকাদারকে ডেকে নিম্ন মানের বিটুমিন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং অবৈধ কাঠ বাতিল করে জুট পোড়ানোর নির্দেশ দেন।