কাপ্তাই হ্রদে বিএফডিসি’র অভিযানে ৩০ হাজার মিটার জালসহ ইঞ্জিন বোট জব্দ

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে বেপরোয়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বন্ধকালীন সময়েও বন্ধ হচ্ছেনা অবাধে মৎস্য শিকার। রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কর্তৃক চলতি বছরের গত পহেলা মে থেকে কাপ্তাই হ্রদে সকল প্রকার মৎস্য সম্পদ আহরণ-বিপনন বন্ধ থাকলেও শহরের অদূরে উপজেলাগুলোর প্রত্যন্ত এলাকার ঘোনাগুলোতে অবাধে মা মাছ শিকারে বিভিন্ন ধরনের সুতার জাল ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার করছে অবৈধ মাছ আহরনকারিরা। স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হ্রদে পাতানো বিশাল বড় জালসহ দেশীয় ইঞ্জিন বোট আটক করেছে রাঙামাটি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ।

বিএফডিসি’তে সদ্য যোগদান করা বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর লেঃ কমান্ডার মোঃ তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৩০ হাজার মিটার জালসহ একটি বোট আটক করা হয়। রাঙামাটি বিএফডিসি, নৌ-পুলিশ ও হাজাছড়া আনসার ব্যাটালিয়ানের সদস্যদের সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানের সময় অবৈধভাবে মাছ ধরা চক্রের সদস্যরা বোট ও জাল ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি বিএফডিসি’র ব্যবস্থাপক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

বিএফডিসি’র ডেপুটি ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি জব্দকৃত জাল আনুমানিক ৩০ হাজার মিটারের মতো হবে, তার মধ্যে সুতার জাল ও কারেন্ট জাল রয়েছে। তিনি জানান, মূলতঃ হ্রদে বর্তমানে ডিমওয়ালা বড়-বড় রুই আর কাতল মাছগুলো ধরার লক্ষ্যে বিশেষ এই জাল নদীর মোহনায় ফেলে অবৈধ একটি চক্র। সকাল ১০ থেকে হাজছড়া নয় নাম্বার টিলায় অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ রাঙামাটিতে ফিরেছেন বিএফডিসি’র টিম। জব্দকৃত জাল ও বোটের আনুমানিক বাজার মূল্য দুই লাখ টাকা বলে জানাগেছে।

এদিকে, চলতি বছরে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে ১৯শে জুন বুধবারই এই ধরনের বড় অভিযান পরিচালনা করেছে রাঙামাটি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বিগত ২০১৭ সালের প্রথমদিকে রাঙামাটি বিএফডিসিতে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অন্যতম চৌকস কর্মকর্তা নৌ কমান্ডার মোঃ আসাদুজ্জামান-বিএন। দায়িত্বভার গ্রহণের পরপরই হ-য-ব-র-ল অবস্থায় থাকা বিএফডিসিতে ব্যাপক সংস্কারমূলক কর্মকান্ড করে জেলে-ব্যবসায়ি থেকে শুরু করে স্থানীয় রাঙামাটিবাসীকে ব্যাপকভাবে সচেতন করে গড়ে তুলেন।

যার ফলশ্র“তিতে কাপ্তাই হ্রদে ব্যাঙের ছাতার মতো থাকা অবৈধ জাঁক অপসারণসহ বিএফডিসি’র মৎস্য পোনা উৎপাদনের একমাত্র হ্যাচারিটি সম্পূর্নরূপে চালু করেন। চলতি বছরে এই হ্যাচারির মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো কাপ্তাই হ্রদে নিজস্ব হ্যাচারিতে রেনু থেকে উৎপাদিত কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে করে বিপুল অংকের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি হ্রদের পানি দিয়ে উৎপাদিত মাছের পোনা শতভাব সুস্থাবস্থায় হ্রদে বড় হচ্ছে। সম্প্রতি চলতি মাসের ১১ তারিখে রাঙামাটি বিএফডিসি থেকে বদলী হয়ে চট্টগ্রামের ঈশা খাঁ’য় চলে যান কমান্ডার আসাদুজ্জামান। ১৬ই জুন তারই স্থলাভিষিক্ত হন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অপর কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

যোগদানের পরপরই তিনি বিএফডিসি’র কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন এবং তারই পূর্বসূরির সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যার ধারাবাহিকতায় হ্রদে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে নিজেই স্প্রিড বোট নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাছ শিকারের ধাওয়া করছেন এবং মাছ ও জাল জব্দ করছেন।

এই বিষয়ে বিএফডিসি’র ব্যবস্থাপক লেঃ কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিএফডিসিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে এই অঞ্চলের জনসাধারণের ভাগ্যোন্নয়নসহ দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্ঠা থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনীসহ অত্রাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট্য সকলের সার্বিক সহযোগিতায় অবৈধ মৎস্য শিকারীদের বিরুদ্ধে রাঙামাটি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ তাদের চলমান অভিযান জিরো টলারেন্স নীতিতে আরো জোরদার করবে। এই লক্ষ্যে সচেতনমহলসহ আপামর রাঙামাটিবাসীর সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেছেন সদ্য রাঙামাটিতে বিএফডিসিতে যোগদান করা নৌবাহিনীর লেঃ কমান্ডার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।