বান্দরবানে ২৫ পাথর ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলাঃ বাদ পড়েছে রাঘব-বোয়ালরা!

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

বান্দরবানের লামায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ জন পাথর ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত- ২০১০) এর ধারা ৪(২), ৬(খ), (ঙ) এবং ১২ ধারায় বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরে পরিদর্শক নাজনীন সুলতান নীপা বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন বলে জানান লামা থানার (ওসি) অপ্পেল রাজু নাহা।

ওসি অপ্পেলা রাজু নাহা জানান, গতকাল পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান এর পরিদর্শক নাজনীন সুলতানা নীপা বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনফুর অংশের জন্য করা মামলায় ৯ জনকে ও ইয়াংছা অংশের জন্য করা মামলায় ১৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া দুই মামলায় আরও ১২ জনকে অজ্ঞাতনামায় রাখা হয়েছে।

বনফুর অংশের জন্য করা মামলায় আসামীরা হলেন মো. মহিউদ্দিন (৪০), জামাল উদ্দিন ফকির (৫২), হুমায়ন কবির (৫০), ওমর হামজা (৪৭), মনু মেম্বার (৫৩), মো. এনাম (৪০), মো. ফরহাদ (৪২), মুছলে উদ্দিন (৪৭) ও গিয়াস উদ্দিন (৪২)।
অন্যদিকে লামার ইয়াংছা অংশে মামলার আসামীরা হলেন ইউনুস সর্দার (৬০), মনসুর ড্রাইভার (৫০), হোসেন ড্রাইভার (৩০), মো. হামিদ (৩০), ইলিয়াছ (৩৫), অহিদ (৩৫), মো. মোস্তফা কামাল ছোট্টু (৪০), মো. মিজান (৩৫), নাজিম উদ্দিন মাষ্টার (৪৫), মুজিবুর রহমান (৪৮), মো. মুমিন (৪০), লোকমান (৩৮), মো. ওসমান (৩৫), আনছার উদ্দিন (৩৬), রোমেশ (৩৩) ও মো. ইউসুফ (৩৩)।

তবে নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, মামলায় বড় ব্যবসায়ীদের নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া ইয়াংছা ও বনফুর এলাকা থেকে ৫ লক্ষ ঘনফুট মজুদ পাথর ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরে পরিদর্শক নাজনীন সুলতানা নীপা বলেন, ১২ জুন থেকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ উদ্যোগে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, বছরে শুধুমাত্র বনফুর ও ইয়াংছা এলাকা থেকে ১৮ লক্ষ ঘনফুট পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ পাথর পাচার হয়ে গেছে। বিষয়গুলো এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সিনিয়র কেমিস্ট এ.কে.এম ছামিউল আলম কুরসি বলেন, অভিযান ও মামলার কার্যক্রম চলমান থাকবে। অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও পরিবেশ আইনে মামলা করা হবে।