ব্রেকিং নিউজ

বাঘাইছড়িতে আশংকাজনক হারে বাড়ছে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা

॥ বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি ॥

বাঘাইছড়ি উপজেলায় হঠাৎ করে বেড়েছে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা। এতে চিকিৎসকসহ শংকিত সচেতন মহল। উপজেলার সাজেক ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে এই ম্যালেরিয়া। বর্ষার স্যাঁতস্যাতে পরিবেশ ও ঝোপঝাড়কেই দায়ী করছে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকেরা। তাই বাড়ীর আঙ্গিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমানোসহ দিনের বেলা হাতে পায়ে মশা নিরোধক ওডোমস জাতীয় ঔষধ শরীরে মেখে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা সদরে জুন মাসে ২ জন ম্যালেরিয়া রোগী কল্পনা চাকমা (২৬) ও মন্টু চাকমা (২৮) চিহ্নিত করা গেলেও পাশের ইউনিয়ন সাজেকে এই সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর (২০১৮) সালের এই দিনে যেখানে ৯৩ জন ম্যালেরিয়া রোগী ছিলো তা ( ২০১৯) সালে একই দিনে দাড়িয়েছে ১১৯ জনে যা চরম আশংকাজনক।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জুপ্পোই থাং ত্রিপুরা জানান, গত মাসে সবচেয়ে বেশী ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এতে গোটা সাজেক অঞ্চলে ভীতিকর পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। এছাড়া মাচালং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তথ্যমতে জানা যায় সাজেকের দূর্গম অঞ্চলে এ সংখ্যা আরো বেশী। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ওইসব অঞ্চলের লোকেরা চিকিৎসা নিতে সদরে আসতেও পারেনা। দুর্গম ওই অঞ্চলে ব্রাকের স্বাস্থ্য কর্মীদের মাধ্যমে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া হয়।

বাঘাইছড়িতে ব্রাকের ম্যালেরিয়া বিষয়ক দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা সুদত্ত চাকমার সাথে যোগাযোগ করে এবিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রাঙ্গামাটিতে আছি আর এভাবে তথ্য দেয়ার নিয়ম নেই। আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিএসওর কাছে রিপোর্ট করি ওনার সাথে যোগাযোগ করেন পরে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুয়েন খীশা (টিএসও) ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন হঠাৎ ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় আমরা কিছুটা শংকিত। গত বছরের চেয়ে এবার সংখ্যাটা অনেকটাই বেশী ২০১৮তে জুন মাসে ম্যালেরিয়া রোগী ছিলো ৯৩ জন ২০১৯ এ এসে জুন মাস শেষে হওয়ার আগেই দাড়িয়েছে ১১৯ জনে এই সংখ্যাটা আরো বাড়তে পারে। ম্যালেরিয়া নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য আমরা সাজেকের দূর্গম অঞ্চলে তিনটি মেডিকেল টিম পাঠিয়েছি এছাড়া সার্সিং টিমও কাজ করছে।

ব্রাকের পক্ষ থেকে কীটনাশক মিশ্রিত মশারী বিতরন করা, ঔষধ ছিটানো হয়েছে, মূলত বর্ষার স্যাঁতস্যাতে আবহাওয়া ও ঝোপঝার ম্যালেরিয়ার বংশ বিস্তারে দায়ী, সাজেক অঞ্চলের মাচালং, কংলাক, অরুন কারবারি পাড়া, রায়না পাড়া, জুপপুই, শিয়ালদাইলুই, তুইছুই, বলপেয়ে, বাদল ছড়ি, বেটলিং, সাদা কারবারি পাড়া, নিউ থাংনাং এলাকা বেশী ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আহসান হাবীব জিতু বলেন, আমি জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে আলাপ আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছি, খুব শীঘ্রই জেলা প্রসাশক এবং সিভিল সার্জন এর সাথে কথা বলে বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে।

উপজলে ভাইস চেয়ারম্যান আবু কাইয়ুম বলেন, ১১৯ জন ম্যালেরিয়া রোগী এই সংখ্যাটি খুবই উৎকন্ঠার, কিন্তু তার চেয়ে বেশী উৎকন্ঠার বিষয় উপজেলার দেড় লক্ষাধিক জনগোষ্ঠির জন্য কেবল তিনজন ডাক্তার তাই আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই খুব সহসায় এই ডাক্তার সংকট সমাধান করার, তিনজন ডাক্তার দিয়ে কখনই এই বিশাল জনগোষ্ঠির চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।