রাতের অন্ধকারে বিএফডিসির অভিযান:পাচারের সময় কাপ্তাই হ্রদের একশো কেজি মাছ জব্দ

॥ আলমগীর মানিক ॥

প্রশাসনিক নানামুখি তৎপরতা সত্ত্বেও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ থেকে অবৈধ পন্থায় মাছ ধরা বন্ধ হচ্ছেনা। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশ বিএফডিসি’র স্বল্প লোকবল আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অপ্রতুলতার সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু চক্র প্রতিনিয়তই কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ জাল ফেলে এই বন্ধকালীন সময়েও ব্যাপকহারে মাছ শিকারে লিপ্ত রয়েছে।

এদিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, বরকলের হাজাছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় এক হাজার কেজির মতো মাছ আটক করে। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে খাগড়াছড়ির কয়লারমুখ সীমান্ত থেকে কেচকি-চাপিলা ভর্তি বড় বড় ছয়টি ড্রাম আটক করেছে বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ।

রাঙামাটিস্থ বিএফডিসি’র সহকারী ব্যবস্থাপক মোঃ জাহিদুল ইসলাম লিখন জানিয়েছেন, আমরা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, একটি অসাধু চক্র কাপ্তাই হ্রদ থেকে অবৈধভাবে আহরিত মাছ শুক্রবার রাতে কয়লারমুখ সিমান্ত দিয়ে পাচার করে ঢাকায় নিয়ে যাবে। এমন সুনির্দিষ্ট্য তথ্য পাওয়ার পরপরই আমরা রাঙামাটি বিএফডিসির ম্যানেজার মোঃ তোহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় একটি টিম ঘটনাস্থলে যাই।

এসময় কয়লারমুখ এলাকায় দায়িত্বরত ৪৩ বিজিবি’র ক্যাম্প কমান্ডার জনাব দিলিপ ও তার সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তা নিয়ে স্থানীয় বড়ইহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গাড়ি তোলার অপেক্ষায় রাখা প্যাকেটজাত অবস্থায় মাছভর্তি ৬টি ড্রাম জব্দ করি। এসময় আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারি চক্রের সদস্যরা সটকে পড়ে। সহকারি ব্যবস্থাপক জাহিদ জানান, আমরা ড্রামগুলো থেকে প্রায় একশো কেজি চাপিলা ও কেচকি মাছ পাই। সেগুলো চট্টগ্রামে নিয়ে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিবে রাঙামাটির বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ।

জাহিদ জানান, বর্তমান সময়ে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ রয়েছে। মাছের সুষ্ঠ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের ঘোষণানুসারে গত পহেলা মে’ ২০১৯ থেকে কাপ্তাই হ্রদে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল প্রকার মাছ আহরণ-বিপনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পূর্নরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়াও রাঙামাটির সকল বরফকলগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। রাঙামাটি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ,বিজিবি-আনসার ব্যাটালিয়ানসহ স্থানীয় জনসাধারনের সার্বিক সহযোগিতায় মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে কাপ্তাই হ্রদে অবৈধভাবে মাছ শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে অবৈধ চক্রটি বর্তমানে প্রধান মোহনা বাদ দিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ি ঘোনাগুলোতে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মাছ শিকারের চেষ্ঠা করছে।

কাপ্তাই হ্রদ দেশের সম্পদ, এই হ্রদের মাছ দিয়ে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির বাসিন্দাদের বিশাল একটি অংশ জীবিকা নির্বাহ করে। তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ সঠিকভাবে গড়ে উঠতে নাদিলে পক্ষান্তরে এখানকার বাসিন্দারাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে তাই আমাদের সকলকে হ্রদের সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। সেই লক্ষে আমরা বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজসহ এলাকার গণ্যমান্য সচেতন ব্যক্তিবর্গের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। অবৈধ মাছ শিকারসহ এর ক্রয়বিক্রয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে বিএফডিসিসহ জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহবানও জানিয়েছেন বিএফডিসি’র ডেপুটি ম্যানেজার মোঃ জাহিদুল ইসলাম লিখন।