ব্রেকিং নিউজ

গুইমারায় প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম তুঙ্গে

॥ আল-মামুন – খাগড়াছড়ি ॥

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলাধীন হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন’র অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতী এখন তুঙ্গে। একের পর এক দূর্নীতি করেও কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেড়েই চলছে তার অনিয়ম। বর্তমানে অনিয়ম বিদ্যালয়টি প্রধান শিক্ষক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে স্কুল পরিচালনা কমিটির একটি চক্রের মধ্যেও।

অভিযোগ উঠেছে এ স্কুলে অধিকহারে বেতন,অযৌক্তিক সেশন ফি ও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফরমপুরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন খাতের আয়কৃত টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, তার নিকট আত্মীয়দের টাকার বিনিময়ে কৌশলে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের থেকে নেওয়া সেশন ফি নিলেও, বার্ষিক সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া অনুষ্টান নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। প্রতি শিক্ষার্থী কাছ থেকে ১শ টাকার উপরে অর্থ আদায় করে বিদ্যালয়ে গত ২-৩ বছর যাবৎ কোনো খেলাধুলা, সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এসব বিষয় জানতে চাইলে শিক্ষার্থীদের নয়-ছয় করে বুঝিয়ে দেওয়াসহ ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও বিদ্যালয়ে রমজানের ছুটিতে স্পেশাল ক্লাস নামে ভাঙ্গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রথমে ফি বাবদ ২শ টাকা বলে পরবর্তিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩শ টাকা করে হাতিয়ে নেয়। শিক্ষার্থীরা এসব ব্যাপারে কিছু বলতে চাইলে এ প্রধান শিক্ষক উল্টোপাল্টা কথা বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালটিতে বেতন নিয়েও রয়েছে ঝামেলা। এ বিদ্যালয়ে পরিক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বেতনের টাকা আদায় করারও অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কিছু বলতে না পেরে বাসা গিয়ে অভিভাবকদের চাপ প্রয়োগ করে।

অতছ পার্বত্য এলাকায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা দরিদ্র, দিনে এনে দিনে খাওয়া অভিভাবকদের পক্ষে অর্থের টানা পোড়নের মধ্যেও এ সকল কারণে অভিভবকরা পরিবার নিয়ে হিমসীম খাচ্ছে অভিভাবকরা। এ ধরনের আচরণে দেশে হাজার হাজার শিক্ষার্থী লেখা পড়া ছেড়ে দিতে বাদ্য হচ্ছে। কারন তাদের পরিবারের পক্ষে তার পড়া লেখার খরচ চালনো অনেক কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ছে। এ ধরনের কর্মকা- অমানবিক বলে মন্তব্য করেন সচেতন সমাজ।

এছাড়াও বিদ্যালয়টি সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গার উপর দোকানঘর নির্মাণ করে প্রতি বছর তা থেকে আদায়কৃত ভাড়ার প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করছে এ শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির একটি চক্র। হাফছড়ি হাই বিদ্যালয়ের ফাউন্ডেশানহীন এ ছাদে টাওয়ারটি ভেঙ্গে পড়ে যে কোন সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনায় মৃত্যুসহ ঝুঁকি থাকলেও মোবাইল টাওয়ারের নির্মানসহ মোট অঙ্কের টাকা মোবাইল কোম্পানীর সাথে চুক্তি করে প্রতি বছর হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসী ও অভিবাবকদের।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কিছু মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তাই এই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন ও পরিচালনা কমিটির জড়িতদের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছে স্থানীয় সচেতনমহল।