সমগ্র দেশ হতে বিচ্ছিন্ন বান্দরবান!

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

বান্দরবান কেরানীর হাট সড়কের বাজালিয়া বড়দুয়ার সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বান্দরবানের সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে এই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সোমবার বিকেলে বাজালিয়া বুড়ির দোকান এলাকায় সড়কের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেলেও ভারী যানবাহন চলাচল ছিল। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে এ সড়কে যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সড়কের উপর দিয়ে কয়েক ফুট পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বান্দরবানে সাথে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে বান্দারবান রাঙ্গামাটি সড়কে। সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়ায় বান্দরবান, রুমা ও থানচি সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

এদিকে টানা প্রবল বর্ষণের কারণে বান্দরবানে সাঙ্গু মাতা মুহুরী, বাঁকখালী নদীর পানি এখন বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর অববাহিকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় এসব নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলের ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বান্দরবান শহরের আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন আশ্রয় নিয়েছে।

এছাড়া পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। সোমবার রাতে শহরের কালাঘাটা হাফেজ ঘোনা, ইসলামপুরসহ বেশ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে অবস্থান নেওয়া ৫০পরিবার মাঝে চাল, ডাল, তেল বিতরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বান্দরবানের লামা উপজেলা সদরে মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম জানিয়েছেন পাহাড় ধ্বস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক শতাধিক পরিবার কে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারীদের খাদ্য সহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রাণহানী ঠেকাতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়ার ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।