ব্রেকিং নিউজ

বিচ্ছিন্ন হওয়ার ২য় দিনেও সারাদেশের সাথে যুক্ত হতে পারেনি বান্দরবান!

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ২য় দিনের মত সারাদেশের সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে সাতকানিয়ার বাজালিয়ার বড়দুয়ারা এলাকায় পানি উঠে সড়ক ডুবে যায়। এর ফলে বুধবারেও সারা দেশের সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম দূর্ভোগে পড়ে অফিস ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ জন সাধারণ।

সোমবার থেকে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে পানি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বুধবার সকাল থেকেও বন্ধ রয়েছে দূর পাল্লার যানবাহন। এদিকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি ভাড়া দিয়ে নৌকা, ভ্যান ও রিক্সায় করে ডুবে যাওয়া রাস্তা পার হচ্ছে শত শত মানুষ। বান্দরবান বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ঝুন্টু দাশ বলেন বান্দরবান চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া এলাকায় পানি না কমায় এখনো বাস চলাচল শুরু হয়নি। পানি না কমা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এদিকে টানা বৃষ্টির কারনে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট পাহাড় ধ্বসে ঘর-বাড়ী ভেঙ্গে পড়ে। তবে কোথাও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শহরের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তলিয়ে যেতে পারে শহরের বালাঘাটা, কালাঘাটা, ইসলামপুর, আর্মি পাড়া, বনরূপা পাড়া, মেম্বার পাড়া, বাসষ্টেশন, লাঙ্গী পাড়া, শেরে বাংলা নগরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। এদিকে বুধবার বিকালে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় এবং বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাসকারী পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে পাহাড় ধ্বসের ঝুকিতে বসবাসকারী অনেক পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রে সড়িয়ে নেয়া হয়েছে। আজকেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া এখনো পর্যন্ত কোথাও কোন বড় ধরনের দূর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তথ্য আদান প্রদানের ২৪ ঘন্টার মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার ৭ উপজেলায় ১২৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে বসবাসকারী ৬৫০টি পরিবারকে ঐসব আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শরণার্থীদের বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রীও বিতরণ করা হয়েছে।