বান্দরবানে পানিবন্দী লক্ষাধিক মানুষ!

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। বৃহস্পতিবার বিকালের পর থেকে পানি বেড়ে যাওয়ায় সদর উপজেলাসহ আলীকদম, লামা, থানচি, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, রোয়াংছড়ি উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। টানা ৬ দিনের ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগসহ বন্ধ হয়ে পড়েছে সারা দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ। এর ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

জানা গেছে, বান্দরবান জেলা শহরের আর্মি পাড়া, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগর, উজানি পাড়া, মেম্বার পাড়া, ওয়াপদা ব্রীজ এলাকা, কাশেম পাড়া, বালাঘাটা,ক্যাচিংঘাটা,বনানী সমিল এলাকা, হাফেজঘোনাসহ সদর উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে লামা পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

এসব উপজেলার সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে সাত উপজেলার সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। এবং বিকালে বান্দরবান বাস স্টেশন এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুর পাল্লার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

এছাড়া বালাঘাটা ব্রিগেড এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় রাঙামাটির সাথেও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো পথচারী। রাস্তা ঘাট ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে চাকরীজীবী পর্যটকসহ স্থানীয়রা।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নোমান হোসেন প্রিন্স জানান, হঠাৎ করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে পড়েছে,আমরা আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা আরো বাড়িয়েছি এবং আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যাদূর্গতদের রাতে শুকনা খাবার ও খিচুড়ি বিতরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূর্যোগ কালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত উপজেলায় মোট ১২৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যায় দূর্গত লোকজন এসব আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রীতদের শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।