আঞ্চলিকদলের চাঁদাবাজি আর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারনেই রাঙামাটির সড়কগুলোর বেহাল দশা: রোমান

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত অধিকার আদায়ের নামে সশস্ত্র সন্ত্রাসে লিপ্ত থাকা আঞ্চলিক সংগঠনের বিপুল পরিমাণ চাঁদাবাজী ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারনে পাহাড়ের সড়কগুলোর কাজ সঠিকভাবে হয়না। যার ফলশ্র“তিতে সামান্য পরিমানে বর্ষণ শুরু হলেই রাঙামাটি শহরের সাথে জেলার বাইরের সড়কগুলোর যোগাযোগ প্রায় সময়ই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান।

বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে রোমান নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন সরাসরি নিয়োজিত থেকে কাজ করে, তখন কাজের মান ভালো হয়।

আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলো সেনাবাহিনী কাজ করলে চাঁদা চাইতে পারে না। সেনা সদস্যদের সততার কারণে দুর্নীতি না হওয়ায় রাস্তায় ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী ভালো মানের হয় কিন্তু সাধারণ ঠিকাদাররা যখন কাজ করে তখন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন গুলোকে চাঁদা দেওয়ার পাশাপাশি কতিপয় দূর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়।

আমাদের রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কসহ তিন পার্বত্য জেলায় যোগাযোগের সড়ক রয়েছে রাঙামাটির সাথে, সেই সব সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার জন্য কারা দায়ী প্রথমেই তা খুঁজে বের করা দরকার?
যেখানে এতগুলি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রয়েছে সেখানে শুধুমাত্র রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ির দায়িতে একজন ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রেখেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

ভূমিধস হওয়ার পরে অদ্যবধি শুধু বল্লি নামক কচি গাছের খুঁটি স্থাপন ছাড়া সড়কের উন্নয়ন এর আর কি কাজ হয়েছে তাও খতিয়ে দেখা উচিত? ভূমি ধসের পর সুদূর প্রসারী পরিকল্পনাকারী অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দিয়ে ধসে যাওয়া অংশে কাজ করানো হলে হয়তো আজ এই ধরণের ঝুঁকির সৃষ্টি হত না?

দুর্নীতিকে বাদ দিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করলে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কটি স্থায়ীত্ব আগামী আরও ১০/২০ বছরেও কিছু হবে না ইনশাআল্লাহ।

শুধু সদিচ্ছা দেশ প্রেম থাকতে হবে এবং দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দিয়ে এসব কাজ করাতে হবে বলে আমি মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রাঙামাটি জেলায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টিসহ প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দিলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না একমাত্র দুর্নীতির কারণে।”