জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় রক্ষা পেলো রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কটি(ভিডিও)

॥ আলমগীর মানিক ॥

অতিবর্ষণে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে এবার সড়ক বিভাগের সাথে মাঠে নামলেন জেলা প্রশাসক নিজেই। গত এক সপ্তাহের বর্ষণমুখর দিনগুলোতে সকালে উঠেই জেলা প্রশাসক বেরিয়ে পড়ছেন তার এলাকার মানুষের দূঃখ দুর্দশা দেখতে।

কখনো পাহাড়ের ঢালে, কখনো ঝূকিপূর্ন এলাকায়, কখনো বস্তিতে, আবার কখনো বা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে দিনভর চষে ফিরেছেন তিনি। নিজ কর্মস্থলের নাগরিকগণ যাতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত না হয়, সেই লক্ষ্যে গত এক সপ্তাহজুড়েই ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই নিরন্তর প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবারও সারাদিনজুড়েই পড়ে ছিলেন রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কটিকে সচল রাখার প্রাণান্তর প্রচেষ্ঠার সাথী হিসেবে।

ঘাগড়াস্থ কলাবাগান এলাকায় বৃষ্টির পানির তোড়ে একমাত্র প্রধান এই সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়া ঠেকাতে সড়ক বিভাগ, সেনাবাহিনী, রেড ক্রিসেন্টসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে নিজেও অংশগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় রসদও সরবরাহ করেছেন তিনি। একজন জেলা প্রশাসকের সুদক্ষ নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে সকলের সারাদিনের নিরন্তর প্রচেষ্ঠায় অবশেষে জনগুরুত্বপূর্ন রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কটি বড় ধরনের দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

প্রচন্ড পানির স্রোত ঠেকাতে দীর্ঘক্ষণ প্রচেষ্ঠা চালিয়েও রাঙামাটির সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়োজিতরা যখন ভাঙ্গণ ঠেকাতে পারছিলোনা, সরেজমিনে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে অবশেষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়োজিতরাও সড়ক বিভাগের সাথে কাজে নেমে পড়ে। পানি স্রোত অন্যদিকে প্রবাহিত করতে সেখানে মাটিভর্তি বস্তা ফেলে এবং মাটি কেটে পানি অন্যদিকে ধাবিত করে স্রোতের স্প্রিড কমিয়ে আনায় অবশেষে রাস্তার পার্শ্বোক্ত মাটি ভাঙ্গন অনেকটা রোধ হয়।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, প্রচন্ড পানির স্রোতকে ডাইভারসেশন করে আমরা অন্যদিক দিয়ে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি জানান, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের সাথে নিয়ে আমরা রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের এই অংশটি যাতে রক্ষা পায় সেই চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি।

অপরদিকে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শংকর চন্দ্র শীল জানিয়েছেন, আমরা সকাল বেলায় সড়কটির পাশে বল্লিপেলাসাইডিং করছিলাম। এসময় প্রচন্ড রকমের বৃষ্টিপাতে প্রবল বর্ষণের ফলে আমাদের সেই বল্লি দিয়ে দেওয়া বাধ ভেঙ্গে গেছে। এমতাবস্থায় আমরা সকলের সহায়তায় মাটি কেটে পানির স্রোত অন্যদিকে প্রবাহিত করিয়ে রাস্তাটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।

জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় রক্ষা পেলো রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কটি(ভিডিও)

জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সারাদিনের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় রক্ষা পেলো রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কটি(ভিডিও)

Posted by ChtTimes24.com on Thursday, 11 July 2019