ব্রেকিং নিউজ

পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে রাঙামাটিতে ১সপ্তাহে নিহত-৬,ভেঙ্গে পড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা(ভিডিও)

॥ আলমগীর মানিক ॥

টানা আটদিনের অব্যাহত বর্ষণের ফলে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি ও পাহাড় ধসের কারনে গত এক সপ্তাহে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় সর্বমোট ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারত সীমান্তবর্তী উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হু-হু করে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদ ও কর্ণফূলী নদীর পানি। তলিয়ে গেছে বাড়ি-ঘর। এরই মধ্যে পানিবন্দী হয়ে রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

সর্বশেষ শনিবার দুপুরে জেলার কাপ্তাই উপজেলায় চলন্ত সিএনজি অটোরিক্সার উপর পাহাড় ধসে পড়ে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপায় দুইজন নিহত হয়। নিহতরা হলেন: অতুল বড়ুয়া ও সুজয় মং মারমা। কাপ্তাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ আহম্মেদ রাসেল ও চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশরাফ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, নিহতরা রাউজানের বাসিন্দা। তাদের নিজেদের বাগান দেখতে এসে ফিরে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশ্ববর্তী পাহাড় ধসে মাটি চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয়দের সহায়তায় নিহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পরিবারের নিকট মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এনিয়ে গত এক সপ্তাহের অব্যাহত বর্ষণে রাঙামাটিতেই নিহত হয়েছে ছয় জন। তার মধ্যে কাপ্তাই উপজেলায় চারজন ও লংগদু এবং বরকল উপজেলায় নিহত হয়েছে দুই ব্যক্তি। ইতিমধ্যেই পুরো রাঙামাটি জেলায় প্রায় দুই শতাধিক অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।

জেলার সকল উপজেলাগুলোসহ শহরের অভ্যন্তরে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ ভিটে-মাটি ছেড়ে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দূর্গম এলাকাগুলোতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমেও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।

এদিকে, কর্ণফুলী নদীর পানি বিপদসীমার উপরে উঠে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে রাঙামাটির সাথে রাজস্থলী ও বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কাপ্তাইয়ের ব্যঙছড়িতেও রাস্তার উপর পাহাড় ধসে পড়ে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

অপরদিকে রাঙামাটির কুতুকছড়ির খামারবাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক বন্ধ হয়েগেছে। জেলার অভ্যন্তরীন সড়কগুলোর বর্তমানে বেহাল দশা। ইতিমধ্যেই এই রাঙামাটির সকল সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে নোটিশ জারি করেছে জেলার সড়ক বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে অবনতি ঘটেছে বাঘাইছড়ি, লংগদু ও বরকল উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি। বাঘাইছড়িতে পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে প্রায় দেড় হাজার মানুষ।দূর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ।

এদিকে নতুন করে দূর্ভোগে পড়েছে রাঙামাটির বরকল উপজেলার নিন্মাঞ্চলের হাজারো মানুষজন। গত দুইদিন ধরে অধিকহারে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসতে থাকায় শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

ভুষনছড়া ইউনিয়নের অনেক রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় অত্র এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। গত শনিবার থেকে রাঙামাটিতে হালকা ও ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে জনজীবনে নেমে আসে দিূর্ভোগ নেমে আসে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত কাপ্তাই উপজেলায় চারজন ও লংগদু-বরকলে পানির স্রোতে তলিয়ে দুইজনসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছে।

২০১৭ সালে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে প্রাণ হারান ১২০ জন। পরের বছর মারা যান ১১ জন। এ বছর মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের পুর্নবাসনে প্রশাসনের কাছে সুপারিশও করে। কিন্তু পুর্নবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হয় না।

পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে রাঙামাটিতে ১সপ্তাহে নিহত-৬,ভেঙ্গে পড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা(ভিডিও)

পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে রাঙামাটিতে ১সপ্তাহে নিহত-৬,ভেঙ্গে পড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা(ভিডিও)বিস্তারিত http://www.chttimes24.com/archives/67649

Posted by ChtTimes24.com on Saturday, 13 July 2019