এইচএসসিতে পাহাড়ের ৩ জেলায় সবচেয়ে খারাপ রেজাল্ট রাঙ্গামাটির শিক্ষার্থীদের!

প্রতীকী ছবি

॥ আলমগীর মানিক ॥

এইচএসসি পরীক্ষায় বরাবরের মতো এবারও পিছনে থেকেছে পাহাড়ের তিনটি জেলা। তবে পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে রাঙামাটির শিক্ষার্থীরা। জেলায় এবার এইচএসসি’র পাশের হার ৪৫.৫ শতাংশ। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার ৪৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বান্দরবান জেলায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। রাঙামাটির ফলাফলে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সচেতন মহল।

পাহাড়ে ফলাফলের এমন চিত্রে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, এর নানা কারণও আছে সমতলের চেয়ে সুযোগ-সুবিধা কম, প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাব, আর মানসম্মত শিক্ষার অভাবে ‘পাহাড়ের জেলাগুলো কিছুটা পিছিয়ে আছে। এদিকে এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটি জেলায় ১৬টি কলেজের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৮জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাঁচজন রাঙামাটি সরকারি কলেজের এবং তিন জন লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের। এইচএসসি ফলাফলে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানাগেছে, এবছর রাঙামাটি জেলায় পাশের হারে জিপিএ-৫ না থাকলেও শীর্ষে রয়েছে লংগদু উপজেলার গুলশাখালী বর্ডারগার্ড মডেল কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানটিতে এবার পাশের হার ৮৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। সর্বমোট ৩৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবছর উত্তীর্ণ হয়েছে ২৮ পরীক্ষার্থী। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গত বছরেও জেলার শীর্ষে ছিলো।

রাঙামাটি সরকারী কলেজে এবার পাশের হার রাঙামাটি সরকারি কলেজে পাশের হার ৫০দশমিক ০৭ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ১৫শ পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে পাশ করেছে ৭৫১ জন, এই কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র পাঁচজন। পাশের দিক দিয়ে এবার অনেকটা পিছিয়ে থাকা শহরের একমাত্র রাঙামাটি সরকারী মহিলা কলেজে এবার পাশের হার পাশের হার- ৩৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট পরীক্ষার্থী ছিল-৬৩১ তার মধ্যে ২২৩ জন পাশ করলেও কোনো জিপিএ-৫ নাই। শহরের অন্যতম প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনী পরিচালিত লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে এবার পাশের হার ৮০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১০৪ জন। তার মধ্যে পাশ করেছে ৮৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ০৩ জন।

শহরের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি পাবলিক কলেজে পাশের হার ৪৩ দশমিক ৫৬শতাংশ। এখান থেকে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৬৩ জন। তারমধ্যে পাশ করেছে ৭১ জন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পায়নি। শহরের বাইরে কাউখালীর ঘাগড়া কলেজে পাশের হার ১২দশমিক ৩০শতাংশ। সর্বমোট ১২২জন পরীক্ষার্থী এই কলেজ থেকে অংশ নিলেও পাশ করেছে মাত্র ১৫জন।

কাউখালির সৃজনী ট্রাস্ট স্কুল এন্ড কলেজে পাশের হার পাশের হার ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাশ করেছে মাত্র ৭জন। অপরদিকে, সৃজনী ট্রাস্ট স্কুল এন্ড কলেজে পাশের হার শতাংশের হারে ২৫%। মাত্র চারজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন পাশ করেছে।

এদিকে লংগদু মডেল কলেজে পাশের হার ৬৪ দশমিক ২৬শতাংশ। তাদের ২৯১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৮৭জন।

বাঘাইছড়ি উপজেলার সিজক কলেজে এবার পাশের হার ৭১ দশমিক ২৭ শতাংশ। তাদের ২৭৫ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে পাশ করেছে ১৯৬ জন। বাঘাইছড়ির কাচালং কলেজে পাশের হার ৫৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। সর্বমোট ৪৭৩ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করেছে ২৭৩ জন।

বরকল উপজেলার রাগীব রাবেয়া কলেজে এবছর পাশের হার- ৫১ দশমিক ২০ শতাংশ। এই কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ছিল-১২৫ জন। পাশ করেছে ৬৪ জন।

রাঙামাটির নানিয়ারচর কলেজে পাশের হার ৪০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এই কলেজ থেকে মোট ১৫২জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৬২ জন।

কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফূলী কলেজে পাশের হার ৩১দশমিক ২৭ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৫৬৬জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৭৭জন।

রাজস্থলী উপজেলায় রাজস্থলী কলেজে পাশের হার ২৫দশমিক ৯৫ শতাংশ। সর্বমোট ১৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এ কলেজে পাশ করেছে মাত্র ৪৮ জন। রাজস্থলীর অপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাঙ্গালহালিয়া কলেজে এবার পাশের হার ৩১ দশমিক ৭২শতাংশ। এই কলেজ থেকে ২৬৮ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাশ করেছে মাত্র ৮৫ জন।

এদিকে এবছর ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার আগের বছরের চেয়ে ‘সামান্য’ কমেছে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীরা ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে খারাপ ফল করায় সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার পাশের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ। গতবছর পাশের হার ছিল ৬২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পাশের হার কমেছে দশমিক ৫৪ শতাংশ।

এরআগে বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান। তিনি বলেন, ‘পাশের হার গতবছরের চেয়ে সামান্য কমেছে। তবে কলেজ এবং পরীক্ষার্থী বেড়েছে। এই হিসেবে বলা যেতে পারে- পাশের হার সমান। তেমন বাড়েওনি, কমেওনি। তবে জিপিএ ফাইভ এবার বেড়েছে। কিন্তু উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিলে জিপিএ ফাইফ প্রাপ্তিতে সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।’ গতবারের চেয়ে এবার পরীক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ফল খারাপ হয়নি বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা। গতবছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৯৬ হাজার ৮৫৮ জন ছাত্রছাত্রী। এবার অংশ নিয়েছে ৯৮ হাজার ৯২৬ জন। গতবারের চেয়ে এবার কলেজের সংখ্যাও বেড়েছে। গতবার ছিল ২৫৩টি, এবার ২৬০টি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে এবছর ৯৯ হাজার ৭৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬১ হাজার ৫২৩ জন। গতবছর পাস করেছিল ৬০ হাজার ৭৫৫ জন। এছাড়া, এবছর জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন ২ হাজার ৮৬০ জন পরীক্ষার্থী। গতবছর পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬১৩ জন। পাসের ক্ষেত্রে এবারও ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে পিছিয়ে আছেন। এবার ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ ছাত্র পাস করেছেন। ছাত্রী পাস করেছেন ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার ৮০ দশমিক ০৯ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাশের হার ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।