রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগের সকল কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনকল্যাণে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, এ জেলার সার্বিক উন্নয়নে আমাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে এ জেলার মানুষের যেমন কল্যাণ হবে তেমনি এ জেলাও এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে যাতে কোন ধরনের কমতি না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে পরিষদের সকল কার্যক্রমে সবসময় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এর মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে পরিষদ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদ এর পরিচালনায় পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অংসুই প্রু চৌধুরী, ত্রিদীপ কান্তি দাশ, থোয়াইচিং মং, সাধন মনি চাকমা, সান্তনা চাকমা, স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী ক্য হ্লা খই, সিভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার’সহ হস্তান্তরিত বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার বলেন, গত ৭জুলাই বালুখালী ইউনিয়নের বসন্ত পাংখোয়া পাড়া থেকে জেনারেল হাসপাতালে আসার পথে এক ডায়রিয়া রোগী মারা যায় এবং অপর একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরের দিন সদর ও জুরাছড়ি উপজেলা হতে ২টি মেডিকেল টিম সে এলাকায় গিয়ে আরো ৮জন ডায়েরিয়া রোগিকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলে এবং সে এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রদান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন উপজেলার পানি অনিরাপদ হওয়ায় পানি পান ও ব্যবহারে সতর্ক থাকার জন্য পানিবন্ধী মানুষদের মেডিকেল টিম থেকে স্বাস্থ্য সচেতনামূলক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বরুন কুমার দত্ত বলেন, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পশুদের সুস্থ সবল রাখার জন্য খামারীদের পরামর্শ ও প্রাণীদের চিকিৎসেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, অন্য জেলায় পার্বত্য এলাকার পশুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই এখানকার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায়ও রপ্তানি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে এখানকার খামারিরা। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের বন্যায় কিছু গৃহপালিত পশু অসুস্থ হলেও প্রাণীসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জনরা তাদের সঠিক সময়ে চিকিৎসেবা দেওয়ায় পশুগুলো সুস্থ হয়ে উঠে। মহামারি আকারে তেমন কোন রোগ এখনো দেখা যায়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের এডিপিও পরিনয় চাকমা জানান, সম্প্রতি বন্যা ও ভুমিধ্বসে জেলার ৭টি উপজেলায় ৩১টি বিদ্যালয়ের ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম খীসা জানান, গত ১৬জুলাই জেলা পরিষদ কর্তৃক রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলার ২০১৮ সালের জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষায় মেধা যাচাই করে বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে উর্ত্তীণদের অনন্য মেধায় ২জন শিক্ষার্থীকে নগদ ৬ হাজার, ট্যালেন্টপুল ৩২জন শিক্ষার্থীকে ৪ হাজার, সাধারণ বৃত্তি ৭৯জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১১৫ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জনাব দীপংকর তালুকদার এবং পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব বৃষ কেতু চাকমা’সহ অন্যান্য অতিথির কাছ থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তির অর্থ, ক্রেষ্ট ও সনদপত্র গ্রহণ করেন।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজ হোসেন জানান, বর্তমানে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০শয্যা, রাজস্থলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০শয্যা, অফিস কাম ষ্টোর এবং বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০শয্যা উন্নীতকরণ কাজ চলছে। অন্যদিকে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০শয্যায় উন্নীতকরণ কাজ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (জিওবি রেভেনিউ বাজেটের আওতায়) ২৬টি নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ কাজের মধ্যে ৯টি হস্তান্তর, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে (ওপি) স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন ১৩টি, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আওতাধীন ৫টি কাজ মেরামত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে (জিওবি ভুক্ত) স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন ৭টি মেরামত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ২০১৮-১৯ (জিওবি রেভেনিউ বাজেটের আওতায়) ১০টি নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক কাজ চলছে।

সভায় হস্তান্তরিত বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ তাদের বিভাগের স্ব স্ব কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।