পাহাড়ে ছেলে ধরা’র বায়বীয় ভূতঃ গুজব রোধে পুলিশ প্রশাসনের আপ্রাণ চেষ্টা

॥ সৌরভ দে ॥

স্বামী-স্ত্রী ও একজন বন্ধু মিলে রিকশায় চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছেন দাবী করে স্ত্রী স্বামীর সাথে বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বিতন্ডায় স্ত্রী পেরে না উঠে এক পর্যায়ে হঠাত রিকশা হতে নেমে স্বামীর দিকে আঙ্গুল তাক করে চিৎকার করে উঠলেন ‘ছেলে ধরা!’ ‘ছেলে ধরা!’ স্ত্রীর মতলব বুঝে স্বামীও চিৎকার করে একই দাবী করতে লাগলেন। এরই মধ্যে চারিদিক হতে মানুষজন জড়ো হয়ে এই তামাশা দেখতে লাগলো কিন্তু জনতা ব্যাপারটি নিছক তামাশা হিসেবে নিলো না। জনতার একদল সত্যিকারের ছেলে ধরা মনে করে স্বামীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো আরেকদল ঝাঁপিয়ে পড়লো স্ত্রীর উপর, বাদ গেলো না বন্ধুটিও! এই ঘটনা দেশের আরেক প্রান্ত গাজীপুরের কিন্তু সেই ‘ছেলে ধরা’ গুজব অনেকটা বায়ু পরিবাহীর মত উড়তে উড়তে চলে এসেছে পাহাড়েও!

‘ছেলে ধরা’ ইস্যুতে রাঙ্গামাটিতে জল কম ঘোলা হয়নি। ফেইসবুকে বিভিন্ন ফেইক আইডি থেকে বার বার এই গুজব ছড়ানো হলেও বাস্তবে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে যায় যে জুরাছড়ি, লংগদুসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় বিশেষ আইন-শৃংখলা সভা ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কথা ওঠে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন-শৃংখলা সভায়ও। সোমবার অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের ওই সভায় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ্ বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত সবকিছু পর্যবেক্ষণ করি। দেশের অন্য জেলার তুলনায় রাঙ্গামাটিতে আমাদের তল্লাশি চৌকি অনেক বেশি তাই কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরণের প্রচার চালান তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

গত কয়েকদিন ধরে আরো একটি গুজব রাঙ্গামাটি শহরে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেটি হচ্ছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক রক্ত নেওয়া হচ্ছে! রাঙ্গামাটি শহরের সবকয়টি বিদ্যালয়ে গুজবটি ছড়িয়ে পড়লে আতংক ছড়িয়ে পড়ে অভিভাবকদের মধ্যে। এরই প্রক্ষিতে ২৩ জুলাই মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি সদর জোনে শহরের সবকয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভাতে সবাইকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি গুজবে কান না দেওয়া এবং অন্যের কানে গুজব না দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়।

এদিকে রাঙ্গামাটি জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সৃষ্ট ভয়-ভীতি দূর করা ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার  মোঃ আলমগীর কবীর(পিপিএম-সেবা)  নির্দেশক্রমে রাঙ্গামাটি জেলার প্রত্যেক থানার অফিসার ইনচার্জগণ স্ব-স্ব এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে গুজব প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ।

এসময় অফিসার ইনচাজ’গণ ছেলে ধরা এই গুজব রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবকগণের সহযোগিতা কামনা করেন।এসময় কাউকে ছেলে ধরা সন্দেহ হলে গণপিটুনি না দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের জাতীয় জরুরী সেবা ‘৯৯৯’ অথবা রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের কন্টোল রুম- ০৩৫১-৬২০৪৪ এ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।