কাপ্তাই কৃষকলীগ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ

॥ ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ॥

কাপ্তাই উপজেলা কৃষকলীগের বিভিন্ন ইউপি সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলীয় নিয়মনীতি ভঙ্গ, নেতাকর্মীদের ভাতা, অর্থ আত্মসাৎ ও নেতৃত্বে অবহেলাসহ নানান অভিযোগ উঠে এসেছে উপজেলাটির কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুধীর তালুকদারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুুপুরে তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশায় জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল্লা ভূঁইয়ার মাধ্যমে রাঙামাটি জেলা কৃষকলীগের নেতৃবৃন্দের কাছে এক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে কাপ্তাই উপজেলা কৃষকলীগের নেতারা। পাশাপাশি উপজেলা আ.লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও দেওয়া হয়েছে অভিযোগ। তার অপকর্ম আর সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দলটির উপজেলা ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

কাপ্তাই উপজেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জিব তনচংগ্যা জানান, সুধীর তালুকদার ওয়াজ্ঞা ইউনিয়ন সম্মেলনে দুলাল নামে এক বিএনপির সদস্যকে কৃষকলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বসাতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে ঘাবড়ে যায় সে। কাঙ্গালীভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে গিয়ে আমাদের বাজেটে থাকা প্রায় ১’লক্ষ ৩০’হাজার টাকার মধ্য স্থিত টাকার পরিমান আমাদের বুঝিয়ে না দিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করে সে। গত তিন বছরেও আয়োজন করতে পারেনি একটি পরিচিতি সভা। ফলে দলের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানান ফাটল, তৈরী হয়েছে তার ব্যাপারে তীব্র অসন্তেুাষ।

রাইখালী ইউপি কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য্য বলেন, কৃষকলীগের কমিটি গঠনের পর থেকে জেলা কৃষকলীগের পক্ষ থেকে দলীয় নেতা কর্মীদের জন্য ঈদ, দূর্গা পূজা, ১লা বৈশাখ সহ বিভিন্ন সময়ে যেসব ভাতা, অনুদান বরাদ্দ আসতো তার প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থই সে জোর পূর্বক আত্মসাৎ করতো। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমি আর আমাদের দলের ইউপি সভাপতি জাকারিয়া প্রায়ই বিরোধিতা করতাম। এই জন্য আমরা যেনো কোন ভাবে পূনঃরায় পদে না আসতে পারি এই জন্য তিনি আমাদের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

রাঙামাটি জেলা কৃষকলীগের সিনিয়র নেতা সুবর্ণ ভট্টচার্য্য বলেন, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুধীর তালুকদারের কর্মকান্ড কোন ভাবেই সুস্থ্য মস্তিস্কের হতে পারেনা। সে চাচ্ছে কৃষকলীগকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে। তার ব্যাপারে আমরা অনেক বেশি অভিযোগ পাচ্ছি। এই অভিযোগ গুলো আমরা খতিয়ে দেখবো।

রাইখালী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি জাকারিয়া বলেন, গত সপ্তাহে উপজেলা কমিটির এক সভার সিদ্ধান্তক্রমে (র‌্যাজুলেশন মোতাবেক) এলাকার কৃষি ফার্ম এলাকার খোলা মাঠে বড় পরিসরে নিজস্ব অর্থে রাইখালীর সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের আগের দিন বিকেলে হঠাৎ আয়োজনের স্থান পরিবর্তন করে ইউপি কার্যালয়ে করতে হবে বলে জোর খাটান। আমরা উক্ত বিষয়ে সম্মতি না দিলে তিনি আমাদের মুঠোফোনে হুমকি প্রদান করেন। পরের দিন ঘটনাস্থলে না এসেই গঠনতন্ত্র বিপরীতে গিয়ে একক ইচ্ছায় আমাদের বর্তমান কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

এদিকে গত ১’বছর পূর্বে দলের উপজেলাটির নেতাকর্মীদের সাথে কোন প্রকার আলাপ-আলোচনা (বৈঠক) ছাড়াই সুবিধা লুটে চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন কৃষকলীগের কমিটি ঘোষণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সোমবার মুঠো ফোনে কমিটি বিলুপ্ত করার পর মঙ্গলবার জেলা কৃষকলীগের সভাপতি বারবারে পাঠানো এক পত্রে কাপ্তাই উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুধীর তালুকদার জানান, রাইখালী ইউনিয়ন কৃষকলীগ নির্দিষ্ট স্থানে যথাযথ সময়ে সম্মেলনের আয়োজন করতে না পারায় এই কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে এই বিষয়ে তার সঙ্গে আলাপ করতে বারবার ফোন করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।