ব্রেকিং নিউজ

বান্দরবান স্বর্ণমন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা উচহ্লা ভান্তে’র বিরুদ্ধে ভূমি জবরদখলের অভিযোগ!

॥ নুরুল কবির – বান্দরবান ॥

বান্দরবানে পর্যটকসহ বিশ্বের কাছে সুপরিচিত স্বর্ণজাদী ও রামজাদী। এই স্বর্ণজাদী ও রামজাদী’র প্রতিষ্ঠাতা বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু উপঞা জোত মহাথের। সবার কাছে পরিচিত উচহ্লা ভান্তে (বৌদ্ধ ভিক্ষু) হিসেবে। এই বৌদ্ধ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে বুধবার প্রেস ক্লাবের সামনে ভূমি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন পালন করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ ও জমিগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকশ মানুষ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম কাথলিক ধর্মপ্রদেশের প্রধান ফাদার জেরোম ডি রোজারিও, রাজপুত্র নু মং প্রু, পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা দিলীপ বড়ুয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: নুরুল আলম প্রমুখ। মানববন্ধনে জায়গা বেদখল হওয়া ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা ও বড়ুয়া সমাজের নেতৃবৃন্দরা মানববন্দনে অংশ নেন।

পৌর কাউন্সিলর ও জেলা বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া বলেন, উচহ্লা ভান্তে একজন সম্মানিত ধর্মগুরু কিন্তু তিনি মানুষের জমি জবরদখল করে অত্যাচারীর ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন।

বোমাং রাজপুত্র নুমংপ্রু চৌধুরী বলেন, আমার পিতা প্রয়াত বোমাং রাজা মংশৈ প্রু চৌধুরীর মালিকানাধীন এসব জমিতে আমাদের চাষাবাদ ছিলো। উচহ্লা ভান্তে রাতারাতি এসব জমি দখল করে নিয়েছেন। এমনকি তিনি ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞাও মানেননি।

তিনি আরো বলেন, একজন ধর্মগুরু কি করে এ কাজ করতে পারেন। একজন শিক্ষিত ব্যক্তি ও ধর্মগুরু’র কাছ থেকে এরূপ আচরণ কোনো মতে কাম্য নয়।

চট্টগ্রাম ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ফাদার জেরোম ডি রোজারিও মানববন্ধনে বলেন, ২০ বছর আগে রোয়াংছড়ি উপজেলার ক্যাথলিক মিশনের নামে সাত একরের জায়গা ক্রয় করা হয়। পরে স্বর্ণমন্দির প্রতিষ্ঠাতা ও রাজগুরু বিহারাধাক্ষ্য উপঞা জোত মহাথের ওরফে উচহ্লা ভান্তে তার বৌদ্ধ মন্দিরের নামে ক্যাথলিকের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেয়। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও জমি আর ফেরত পায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সাল থেকে এই বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুর বিরুদ্ধে জমি জবরদখলের অভিযোগ করে আসছে পাহাড়ি-বাঙালি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বেশ কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান আছে।