আজ ঐতিহাসিক হিরোশিমা দিবস

॥ ইকবাল হোসেন ॥

১৯৪৫ সাল’র ৬ই আগস্ট মানে আজকের এই দিনে পৃথিবীর মানুষ দেখেছিল নতুন এক অস্ত্র পারমাণবিক বোমা। ওইদিন সকালে আমেরিকার বিমান বাহিনী জাপান’র হিরোশিমা শহরে লিটল বয় নামের পারমানবিক বোমা ও এর তিন দিন পর জাপানের নাগাসাকি শহরের উপর ফ্যাট ম্যান নামের আরেকটি পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

জাপান’র হিরোশিমা শহরে ১৯৪৫ সালের ৬ই আগস্ট আমেরিকা যে পারমানবিক হামলা চালিয়েছিলো তা ছিলো পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম পারমানবিক হামলা। লিটল বয় নামের ওই পারমানবিক বোমা বিস্ফরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই ধংসস্থুপে পরিণত হয় পুরো হিরোশিমা শহর। অনুমান করা হয় ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পারমানবিক বোমা বিস্ফরণের ফলে হিরোশিমা শহরের প্রায় ১,৪০,০০০ (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) মানুষ মৃত্যুবরণ করে। পরবর্তীতে উক্ত বোমার তেজস্ক্রিয়তার ফলে আরো প্রায় লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। জাপানের হিরোশিমা শহরের যে দুই লক্ষাধিক মানুষ পারমানবিক বোমা হামলার ফলে মারা যান তাদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। এছারাও জাপানের আসাহি শিমবুন’র করা জরিপ অনুযায়ী জানা যায় যে পারমানবিক বোমার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগসমূহের উপর হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযয়িী হিরোশিমাতে ২,৩৭,০০০ (দুই লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার) মানুষের মৃত্যু ঘটে।

১৯৪৫ সালের শেষের দিকে যখন নাৎসি বাহিনী যখন যুদ্ধক্ষেত্রে মিত্র বাহিনীর কাছে বারবার পরাস্ত হচ্ছিল এবং নাৎসি নেতারা যখন নিজেদের পরাজয় সন্নিকটে বুঝে ফেলে সবাই যার যার জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যেতে ব্যস্ত। তখন জাপানকে আত্মসমার্পন করতে বাধ্য করার এর চেয়ে ভালো উপায় হয়ত তখন আমেরিকার নীতিনির্ধারক মহলের কাছে ছিলো না। এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৪১ সালের ৭ই ডিসেম্বর ও এর ৬ মাস পর ১৯৮২ সালের ৪-৭ই জুন জাপানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার এ আক্রমণ করে। ১৯৪১ সালের ৭ই ডিসেম্বর জাপানি বাহিনীর পার্ল হারবার এ করা বিমান হামলায় আমেরিকার বিপুল পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয় ও প্রচুর প্রাণহানি ঘটে। জাপানের পার্ল হারবার আক্রমণের পূর্ব পর্যন্ত আমেরিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি কিন্তু ৮ই ডিসেম্বর যুদ্ধ ঘোষনার মাধ্যমে সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ১৯৪২ সালের ৪ই জুন থেকে ৭ই জুন পর্যন্ত চলা জাপানের পার্ল হারবার আক্রমনে আমেরিকার তুলনায় জাপানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ছিলো আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় কয়েকগুন বেশি। যা পুরো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিপথ পাল্টে দেয়।

কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের মিত্রশক্তির কাছে আত্মসমার্পণের পেছনে এই পারমানবিক বোমা বর্ষণের ভূমিকা এর প্রতিক্রিয়া এবং এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। আমেরিকার অধিকাংশ মানুষের ধারণা যে জাপানের উপর পারমানবিক হামলার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনেক আগেই সমাপ্ত হয়েছিলো। যার ফলে আমেরিকার পার্ল হারবার এ জাপানের আক্রমণের জবাবে পূর্ব-পরিকল্পিত জাপান আক্রমণ সংগঠিত হলে উভয় পক্ষের যে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হত তা আর ঘটেনি। কিন্তু অন্যদিকে জাপানের সাধারণ জনগণ মনে করে এই পারমানবিক বোমাবর্ষনের কোন প্রয়োজন ছিলো না কারণ তখন জাপানের বেসামরিক নেতৃবৃন্দ যুদ্ধ থামানোর জন্য গোপনে কাজ করছিলো।

আজ পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটা প্রথম পারমানবিক বোমা হামলার ৭৪ বছর পূর্ণ হলো।