ফলোআপ: বাঘাইছড়িতে ড্রাবল মার্ডার মামলায় আটক-২, যৌথাভিযান চলছে

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস সংস্কারের ২ নেতাকে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত ব্রাশ ফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো- রাঙ্গাধন চাকমা(৩৩) ও শৈলেন চাকমা(৩৫)। গত দুইদিনে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনীর সদস্যরা উক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ। বাঘাইছড়ি থানার ওসি তদন্ত জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জেএসএস এমএনলারমা দলের দুই নেতা নিহতের ঘটনায় মঙ্গলবার (২০ আগষ্ট) রাত সাড়ে এগারোটায় বিশেষ অভিযানে এক ব্যাক্তিকে আটক করে যৌথ বাহিনী। তার নাম রাঙ্গাধন চাকমা ৩০ ওরফে পরেস্বর চাকমা, পিতা একালম্ব চাকমা, সাং নিউ ফরেষ্ট এলাকা।

অপরদিকে, ১৯শে আগষ্ট রাতে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে শৈলেন চাকমা (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। ১৯ আগস্ট সোমবার বিকাল ৪ ঘটিকায় উপজেলার পশ্চিম খেদারমারা ইউনিয়নের দুরছড়ি এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করে যৌথবাহিনী। আটককৃত দুইজনকেই রাঙামাটির আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গত রোববার (১১ আগষ্ট) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরের বাবু পাড়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে গুলি করে এমএন লারমার মতাদর্শী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস সংস্কার সমর্থিত যুব সমিতি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শতসিদ্ধী চাকমা (৩৮) এবং একই কমিটির বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনো চাকমা (৩৫) নির্মমভাবে হত্যা করে প্রতিপক্ষ আঞ্চলিকদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিনগত রাতে জ্এেসএস সংস্কার সমর্থিত যুব সমিতির নেতা শতসিদ্ধী চাকমা এবং এনো চাকমা বাবু পাড়া এলাকার রিপন চাকমার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় দিবাগত রাত ১২টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

এমএন লারমা দলের নেতা জসি চাকমা এই ঘটনার জন্য পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে দলকে দায়ী করেছেন। এই ঘটনার পরবর্তী সময়ে বাঘাইছড়ির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জেএসএস নেতা বড় ঋষি চাকমাকে প্রধান আসামী করে সর্বমোট ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। শতসিদ্ধি ও এনো হত্যার মামলায় নামোল্লেখিত আসামীরা হলো: ১.বড় ঋষি. ২.তন্টু মনি, ৩.সুভাষ বসু, ৪.মনি শংখর চাকমা, ৫.সুনীল বীহারি চাকমা, ৬.ত্রিদীপ চাকমান, ৭.পলক তালুকদার, ৮.রাজেন্দ্র চাকমা, ৯.প্রভাত কুমার, ১০.আবিষ্কার, ১১.বিটু চাকমা, ১২.মলয় কিশোর, ১৩.বিমল কান্তি চাকমা, ১৪.রঞ্জন মুণি চাকমা, ১৫.জয় দত্ত, ১৬.বুদ্ধাংকুর চাকমা, ১৭.বরুন চাকমা, ১৮.বিচক্ষণ চাকমা, ১৯.বিস্তার চাকমা, ২০.প্রনয় কান্তি চাকমা, ২১.সুদিপ্ত চাকমা, ২২.যশু চাকমা, ২৩.খোকন চাকমা, ২৪.দয়া সিন্ধু চাকমা, ২৫.ভাগ্য চাকমা, ২৬.আপন চাকমা, ২৭.জুপিটর চাকমা, ২৮.যতন চাকমা, ২৯.নিকেটন চাকমা, ৩০.সোহাগ চাকমা, ৩১.অজয় চাকমা, ৩২.শান্তি মহন চাকমা, ৩৩.সোহেল চাকমা, ৩৪.তাপস চাকমা, ৩৫.তাহেল চাকমা (অন্তিক), ৩৬.সোহেল চাকমা(পাবালা খালী), ৩৭.শান্তি বিজয় চাকমা, ৩৮.অমর কৃঞ্চ চাকমা, ৩৯.অনিল বিকাশ, ৪০.জ্ঞান প্রকাশ চাকমা, ৪১.এলিন চাকমা, ৪২.দীপায়ন খীসা, ৪৩.মেরিন চাকমা, ৪৪.কেরিটন চাকমা, ৪৫.রুমি চাকমা, ৪৬.নিরোত কান্তি চাকমা, ৪৭.দ্বিন মহন চাকমা, ৪৮.মোঃ ইয়াসিন, ৪৯.মো:ফারুক, ৫০.মোঃ আজিজুল।