ব্রেকিং নিউজ

৫৭ বছর ধরে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত মাঝেরবস্তি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার মানুষ

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটির পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের মাঝেরবস্তিস্থ সদর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় একটি ব্রিজের অভাবে বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে এলাকাবাসী। এতে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাঙামাটির মাঝেরবস্তি এলাকার পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার কাপ্তাই হ্রদের কারণে র্দীঘ ৫৭ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা নদী পারাপরের জন্য জোড়াতালি দেয়া বাঁশের একটি সাঁকো এক মাত্র ভরসা। এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হন উক্ত এলাকার বাসিন্দিারা। তবে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর নিচে নেমে গেলে চলাচল স্বাভাবিক হলেও প্রতি বর্ষা মৌসুমে ৪ মাস রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে গেলে স্থানীয়রা আবারো নতুন করে বাঁশের সাঁকো তৈরী করে সেই সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজ গামী শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ যাতায়াত করতে হয়। আর প্রতি বছর এই বাঁশের সাঁকো তৈরী করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, ভৌগলিক কারনে রাঙামাটির মাঝেরবস্তি সদর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের অবহেলিত জনপদের মধ্যে এই একটি এলাকা। এখানে কখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের ছোয়া লাগলেও এই এলাকায় কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। আর মাঝেরবস্তি সদর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকাটি ঘনবসতি এলাকা হওয়ায় সেখানে চলাচলের রাস্তা সরু হওয়ায় কোন প্রকার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাড়ায় ঢুকলে সেখানে বের হয়ে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। আর এলাকায় কেউ যদি অথাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে তাকে সেই সাঁকো দিয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারা দূর্রহ ব্যাপার।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘনবসতি এলাকা হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোন উন্নয়ন না হওয়ায় রাষ্ট্রের অনেক জরুরী সুযোগ-সুবিধা ও সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে এসব এলাকার সাধারণ মানুষগুলো। এ যেন বাতির নীচে অন্ধকার। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আধুনিকতার যুগে এসে স্বাধীনতার ৫৭ বছর পার হলেও রাঙ্গামাটি শহরের ৩নং ওয়ার্ডের মাঝেরবস্তির পুলিশ ফাঁড়ি নামক স্থানে নদীর ওপর আজও কোন ব্রিজ নির্মান হয়নি। একটি ব্রিজের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কখনো নৌকা আবার কখনো বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হয় স্কুল-কলেজ, ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকার মানুষদের। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশির ভাগ সময় ধরে বন্যার পানি চার দিকে থই থই করে। তখন পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো অথবা ভাড়ায় চালিত নৌকা। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই হ্রদের পানি কমে গেলেও পানি-কাঁদায় একাকার হলেও হেঁটেই এলাকার মানুষ তাদের প্রয়োজনের তাগিদে তবলছড়ি বাজার, রিজার্ভ বাজার ও বনরূপা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে।

এব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা অলি আহমেদ জানান, যুগের পর যুগ এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে এলাকার মানুষ কষ্ট করে পারাপার হলেও এখানে একটি সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দাবি থাকলেও কারো যেন মাথা ব্যথা নেই। প্রতি বছর কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে প্রায় ৪ মাস জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো অথবা ভাড়ায় চালিত নৌকা দিয়ে পারাপার করতে হয়। অন্যদিকে প্রতিবছর এই বাঁশের সাঁকো তৈরী করতে গজ্জা দিতে হচ্ছে প্রায় ১০/১৫ হাজার টাকা। অনেক সময় বাঁশের এই সাঁকো তৈরী করতে সময় লাগার কারণে তারা ভাড়ায় চালিত নৌকা দিয়ে যাতাযাত করতে হয়। এতে করে সময়ে কারণে গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ করতে হিমশীম খেতে হয়।

মাঝেরবস্তির পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা বাবুল শুক্লা দাশ ও সুজন ত্রিপুরা জানান, এই এলাকার হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতাল নেয়া অনেক কষ্ট হয়ে পড়ে। আবার এলাকায় মধ্য রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা গর্ভবতীদের নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। আর এই পাড়ার চলাচলরত রাস্তা সরু হওয়ার কারণে যে কোন সময় আগুন লাগলে বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও আইন শৃংখলা বাহিনী পৌঁছাতে বেগ পেতে হবে। তাই এখানে প্রশাসনের কাছে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি আমাদের দীর্ঘ দিনের। দীর্ঘ ৫৭ বছরেও দাবি কেউ বাস্তবায়িত করেনি। যার জন্য এলাকাবাসীকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই জরুরি ভিত্তিতে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে।

এব্যাপারে রাঙামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার কাছে ব্রিজের ব্যাপারে জানা আছে। তবে ব্রিজ নির্মানের প্রকল্পটি এ বছর গ্রহণ করা যায়নি। আগামীতে এই ব্রিজ যাতে বাস্তবায়ন হয় সেই লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।