রাঙামাটিতে আগষ্ট মাসে ৭ হত্যাসহ ৫৯ মামলায় আটক-৩১৭! অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

॥ আলমগীর মানিক ॥

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি বেড়েছে পুলিশী তৎপরতা। বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ভৌগলিকগতভাবে ভিন্নতর অবস্থানসহ আঞ্চলিকদলগুলোর সন্ত্রাসী তৎপরতার পাশাপাশি মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি রাঙামাটিতে পুলিশের পক্ষ থেকে তৎপরতাও বাড়ানোর ফলে গত এক মাসে জেলায় নিয়মিত মামলায় এবং ওয়ারেন্ট তামিল করে গ্রেফতার করা হয়েছে সর্বমোট ৩১৭ আসামীকে।

জেলার থানাগুলোতে শুধুমাত্র আগষ্ট মাসেই সর্বমোট দায়েরকৃত ৫৯টি মামলাসহ ২৪৬টি ওয়ারেন্ট তামিলের মাধ্যমে এসব আসামীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জেলা পুলিশের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় আটক করা হয়েছে ৭১ জন আসামীকে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানাগেছে, গত আগষ্ট মাসে রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে খুনের ঘটনায় ৭টি হত্যা, ২৬টি মাদকের, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৩টি, অস্ত্র আইনে ২টি, চোরাচালান-১টি, ৪টি চুরির ও অন্যান্য অভিযোগের ভিত্তিতে ১৬টি মামলাসহ সর্বমোট ৫৯টি মামলা হয়েছে। গত মাসে ৩টি অস্ত্র, ৭ রাউন্ড গুলি, ১টি কার্তুজ, ১০৬ পিছ ইয়াবা ও ১৫৯ লিটার চোলাই মদ, চার কার্টুন ভারতীয় সিগারেট, ৯ প্যাকেট চা পাতা উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলায় মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানও বেড়েছে এমন সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে পুলিশের একজন উদ্বর্তন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জুলাই মাসে মাদকের ১৭টি মামলা হলেও আগষ্টে মামলা হয়েছে-২৬টি।

পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর-পিপিএম’র নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পোশাকদারি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশের মাধ্যমেও মাদকসেবী ও বিক্রিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন নাম প্রকাশ না করতে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা।

বিগত কয়েক মাসের মধ্যে চলতি বছরের আগষ্টে রাঙামাটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমানে আসামী গ্রেফতার করার তথ্য মিলেছে মাসিক তালিকার মাধ্যমে। এই মাসে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে কাপ্তাই থানায়। এরপরের অবস্থান রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় আটক করা হয়েছে ৩৪ জনকে। তারপরে রয়েছে চন্দ্রঘোনা থানায় আটককৃত আসামীর সংখ্যা-১৯। জেলার লংগদু থানায় আগষ্টে সর্বমোট আটক করা হয়েছে ১২ আসামীকে।

এদিকে, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর-পিপিএম(সেবা) জানিয়েছেন, জনগনকে অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত রাখতে কমিউনিটি পুলিশিংসহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে রাঙামাটি পুলিশের সদস্যরা।

এসপি বলেন, রাঙামাটিতে বাল্য বিবাহ, সামাজিক সন্ত্রাস, চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অনেকটাই কমে আসার কারণ হচ্ছে, আমরা জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি জনসাধারনের মাঝে আইন মানার প্রবনতা বৃদ্ধি করায়। জেলার সার্বিক মামলার চিত্রে পারিবারিক কলহ ভিত্তিক মামলার সংখ্যা প্রায় কমে এসেছে এবং এটা সম্ভব হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদেরকে মামলামুখি হওয়ার প্রবণতা থেকে অনুৎসাহিত করার মাধ্যমে এমন মন্তব্য করে পুলিশ সুপার বলেন, এখানকার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্রাঞ্চলের জনসাধারণকে সর্বাজ্ঞে এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশকে সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাড়াতে হবে।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার কোনো বিকল্প নেই। অপরাধীদের ব্যাপারে সার্বিকভাবে তথ্য প্রদানের আহবান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, পাহাড়ে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজীসহ মাদকের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন, প্রয়োজনে তথ্য প্রদানকারিদের সার্বিক পরিচয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোপন রাখবে এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

এদিকে শহরে মাদকসেবীদের পাইকারি বিক্রয় ব্যবস্থা বন্ধ হলেও খুচরা পর্যায়ে রয়েছে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি জানিয়েছেন, রাঙামাটি শহরে মাদকের অবাধ বিচরণ যেটা পাইকারি হারে আগে হয়েছিলো সেটা আমরা অব্যাহত অভিযানের মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। ইতিমধ্যেই মাদক চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাদের অনেককেই জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, আমরা খুরচা পর্যায়ে যারাই বিক্রি বা সেবনের সাথে জড়িত তাদেরকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি উঠতি বয়সি মাদকাসক্ত তরুনদের ব্যাপারে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।