নিজেদের উপর নিপীড়নের প্রতিবাদে সিলেটি পাড়া এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটি শহরের সিলেটি পাড়ার বাসিন্দা দুদু মিয়ার এবং তার পরিবার কর্তৃক হয়রানী এবং এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পেতে সংবাদ সন্মেলন করেছে এলাকাবাসী। রোববার বিকেলে রাঙামাটির স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকা অফিসে সংবাদ সন্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সন্মেলনে এলাকাবাসীরা বলেন, কোতয়ালী থানার ওসি তদন্ত খান নুরুল ইসলামের মদদেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে দুদু মিয়া ও তার ছেলেরা’। এজন্য এ পুলিশের এই কর্মকর্তার অপসারণ চেয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আসা মোঃ ফুলন মিয়া(২৫) বলেন, এক নারীকে প্রকাশ্য দিবালোকে বিবস্ত্র করে গোপনাঙ্গে মরিচের গুড়ো লাগিয়েও দুদু মিয়া ও তার ছেলেদের শাস্তি না হওয়ায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মোঃ আব্দুল করিম (৫০) ও সুচিং চাকমা (৪৫) বলেন, দুদু মিয়া আর তার ছেলেরা তুচ্ছ ঘটনায় জনৈক আলই মিয়াকে মেরে রক্তাক্ত করেন। এতে তার হাত ভেঙ্গে যায়। মাথায় ৯টি সেলাই দিতে হয়েছে। আবার উল্টো মামলা করে গণহারে আসামী করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল মিস্ত্রি(৬৩) ও রইছ উদ্দিন (৬৫) বলেন, জুলুম নির্যাতন করে উল্টো আদালতে ৩/৪টি মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে হয়রানী করছে দুদু মিয়া। এসব মামলার তদন্ত ভার নিয়ে ওসি তদন্ত খান নুরুল ইসলাম অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সন্ত্রাসি কর্মকান্ডে দুদু মিয়াকে মদদ দিচ্ছেন। তাই ওসি তদন্তকে অপসারণ করা না হলে সন্ত্রাসি কর্মকান্ড থামবে না বলে তারা অভিযোগ করেন।

অবশ্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মদদ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি তদন্ত খান নুরুল ইসলাম। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘জমিজমার বিরোধ নিয়ে দুদু মিয়া আদালতে ৩/৪টি মামলা করেছেন। মামলাগুলোর তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছে। তদন্ত কাজে বিঘœ সৃষ্টি করতেই এই সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করা হয়েছে’।

তবে থানাকে না জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কোতয়ালী থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি। বলেন, ওসি তদন্ত অন্যায় করলে থানাকে জানাবেন ক্ষতিগ্রস্তরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহিদুল ইসলাম(২৬)। এসময় নিজের ওপর ঘটে যাওয়া মরিচের গুড়ো দিয়ে নির্যাতনের বর্ণনা দেন গৃহবধু শাহিনুর বেগম(৩০)। দুদু মিয়া ও তার ছেলেদের বিচার চান তিনি।

এবিষয়ে কথা বলতে দুদু মিয়ার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ছোট ছেলে সিরাজুল ইসলাম রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে প্রতিবেশিদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে আছে বলে স্বীকার করেন তিনি। এব্যাপারে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীরা বলেন, সিলেটি পাড়ার দুদু মিয়া ও তার পরিবারের নিকট পুরো এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে আছে।তারা কথায় কথায় অহেতুক এলাকার যে কাউকে শারীরিক নির্যাতন করার পাশাপাশি মিথ্যা মামলার দিয়ে হেনস্তা করার পাশাপাশি আবার অর্থের বিনিময়ে মামলা প্রত্যাহার ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে । তারা বলেন ,গত ২৮ জুন শাহিনুর বেগম(৩৩) কে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে সম্পূর্ন উলঙ্গ করে গোপনাঙ্গে সমস্ত শরীরে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দিয়েছে যার প্রমান বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও রয়েছে। এছাড়াও ২৯ মে রমজান মাসে এলাকার আলই মিয়া ও তার পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালালে আলই মিয়ার ডান হাত ভেঙ্গে যায় এবং মাথায় মারাত্মক জখমের কারনে ৯টি সেলাই করতে হয়।

এলাকাবাসীরা আরো জানায়, জামায়াতে নামাজ পড়ার সময় উচ্চ স্বরে গান বাজনা বাজায় এই ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হলে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়না।এর পরে দুদু মিয়ার ছেলে ফখর উদ্দিন জোর করে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। এই সময় শফিকুল ইসলাম অন্তর, মোঃ আলী, রুইস উদ্দিন, ইসমাইল, করিম, চুচিং চাকমাসহ প্রায় শতাদিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে শেষে সিলেটি এলাকাবাসীর আয়োজনে  চেম্বার অফ কমার্সের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, মাস দুয়েক আগে এক নারীকে প্রকাশ্য দিবালোকে বিবস্ত্র করে গোপনাঙ্গে মরিচের গুড়ো লাগিয়ে ‘ত্রাস’ হিসেবে আলোচনায় আসেন রাঙামাটির তবলছড়ির সিলেটি পাড়ার বাসিন্দা দুদু মিয়া।