পাহাড়ে জনপ্রতিনিধিদের সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থানের বিষয়টি আমরা সিরিয়াসলি দেখবো: জেলা প্রশাসক

॥ আলমগীর মানিক ॥

সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সভা-সমাবেশে সরকার বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান করছেন। এটা কখনোই কাম্য নয় মন্তব্য করে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ সরকারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিগণিত হয়ে জনসাধারণের কল্যাণে কাজ করে থাকেন। সেক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়নের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে তথাপি জনগণের উন্নয়নের কথাগুলো জনপ্রতিনিধিসহ আমাদের সকলকেই বলতে হবে। সরকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানের চেয়ারে বসে সরকার বিরোধী এবং দেশ বিরোধী বক্তব্য প্রদানকারি জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধ পরিকর রাঙামাটির জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসক বলেন, জনপ্রতিনিধিগন তাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলার তথ্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের কাছে পাঠাবেন এবং নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে সরকারে কাজে সহযোগিতা করাই হলো জনপ্রতিনিধিদের কাজ। অন্যথায় সরকার বিরোধী তথা সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থানের বিষয়টি আমরা সিরিয়াসলি দেখবো এবং আমরা ব্যবস্থা নিবো। রোববার রাঙামাটিতে আয়োজিত জেলার আইন শৃঙ্খলা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। এসময় সভায় বিশেষায়িত অঞ্চল হিসেবে এই অঞ্চল থেকে সরকারী কর্মকর্তারা বদলি হওয়ার সময় জেলা প্রশাসককে অবহিত করার বিয়ষটি নিয়ম থাকলেও সেটি করা হচ্ছেনা বলেও সভায় কথা উঠে। জবাবে জেলা প্রশাসক জানান, আমাদের এখানে সরকারী কর্মকর্তারা কখন আসে, আর কখন বদলি হয়ে চলে যায়, সেই বিষয়ে জেলা প্রশাসক হিসেবে আমাকে কিছুই জানানো হয়না।

তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী থেকে শুরু করে পুরো শহরের রাস্তাগুলোর ফুটপাতগুলো পরিস্কারে এখন থেকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের মাধ্যমে শীঘ্রই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। রাঙামাটির সামাজিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট্য সকলের সহযোগিতায় ইতিমধ্যেই অনেকগুলো সেক্টরে উন্নতি হয়েছে, বিশেষভাবে রাঙামাটির শিক্ষাখাত, বিদ্যুত বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগসহ অতিপ্রয়োজনীয় সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা প্রাপ্তি কিভাবে আরো উন্নতি কিভাবে করা যায়, সেলক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। সভায় রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, রাঙামাটি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষসহ, বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবর্গ উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন।

জেলার সর্বোচ্চ এই সভায় রাঙামাটির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা দেশের অন্যান্য জেলাগুলো থেকে অনেক অনেক ভালো মন্তব্য করে জেলার পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর-পিপিএম (সেবা) বলেছেন, দেশের সমতল ভূমির তুলনায় রাঙামাটিতে চারভাগের একভাগ মামলাও হয়না। তারপরও সেই হাল আমলের পরিবেশ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে এসে আমরা এখানে যারা দায়িত্বপালন করছি তারা সকলেই একটি সুন্দর রাঙামাটি বির্নিমাণে কাজ করে যাচ্ছি।

অন্যতম সৌন্দয্যমন্ডিত রাঙামাটি জেলাকে সারাদেশ তথা বিশ্বে পরিচিতি করে তোলার ক্ষেত্রে অত্রাঞ্চলের নীতি নির্ধারকরা কতটুকু আন্তরিক এমন প্রশ্ন তুলে পুলিশ সুপার বলেন, সর্বাজ্ঞে নিজেদের এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এগিয়ে এসে আকর্ষণীয় ও নিরাপদ রাঙামাটি গঠনে ভূমিকা রাখুন।

পুলিশ সুপার জানান, রাঙামাটিতে উঠতি বয়সী কিশোরদের ব্যাপারে পুলিশকে পদক্ষেপ নিতে যারাই বলছেন, তারাতো এই সমাজেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন, আপনারা এসব ব্যাপারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলছেন না কেন? কেনই বা আপনার সন্তানকে আপনি আঠারো বছর বয়সের আগেই মোটর সাইকেল তুলে দিচ্ছেন।

সভায়, পুলিশ সুপার জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনারা আমাকে কথা দেন যে, অপরাধীদের ধরে আনলে থানার ওসি বা আমার কাছে কোনো প্রকার তদবির নিয়ে আসবেন না? তাহলে একমাসের মধ্যেই আমি পুরো রাঙামাটিকে ছেকে ফেলবো।

আগে নিজেদের ঘর সামলানোর পরামর্শ দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, আপনারা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন বিধায় আপনাদের নিয়ে এই সভাটি করা হয়। আপনাদের নিজ নিজ এলাকায় আগে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে। অন্যথায় প্রতি মাসের আইনশৃঙ্খলা সভায় এসে অভিযোগ তুলে ডিসি-এসপির দোষ ধরার মাধ্যমে ক্রেডিট নিয়ে এলাকা ঠিক করতে পারবেন না।

এদিকে সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী বছর, আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে পালন করবো। এই ক্ষেত্রে সরকারী অফিসগুলো থেকে কি কি কর্মসূচী পালন করা যায় সেই বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে তাদের কর্মসূচী প্রস্তাবনার বিষয়টি জানানোর আহবানও জানিয়েছেন ডিসি।