পাহাড়ে ভুমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাঙামাটি শহরঃ নেই কোন প্রস্তুতি!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ভুমিকম্প হলে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী এলাকাগুলোতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বহুতল ভবনগুলোতে বেশী ক্ষতি হবে। যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে ৭.৫ মাত্রায় ভুমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা কঠিন হবে। ক্ষয়ক্ষতি রোধে মানুষকে সচেতন হতে হবে। কিন্তু এ দুর্যোগ মোকাবেলায় কোন প্রস্তুতি নেই রাঙামাটিতে।

সোমবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে শক্তিশালী ভুমিকম্পে সহনশীলতায় বাংলাদেশ বিষয়ক এক সভায় এ কথা বলেন বক্তারা। বক্তারা বলেন রাঙামাটিতে যেভাবে ভবন নির্মাণ হচ্ছে এতে কোন মাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে না। পৌর আইন মানা হচ্ছে না। পৌরসভারও সঠিক মনিটরিং নেই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ভুমিকম্পসহ যেকোন দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে রাখতে হলে জন সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী। অতীতে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এগুলোর অন্যতম কারণ সচেতনতার অভাব। সচেতনতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে রাখা যাবে।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন শহীদ তালুকদার বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে প্রতিনিয়ত উঁচু উচু ভবন গড়ে উঠছে। ভুমিকম্প আঘাত করলে এগুলোর অবস্থান হবে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে। এতে বড় প্রাণহানী ঘটবে। পাশাপাশি এসব ভবন কাপ্তাই হ্রদ দুষণ করছে।

ইউএসডি এডিপিসি ও আশিকা মানবিক উন্নয়ন সংস্থা এ সভার আয়োজন করে। আশিকার নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক এসএম শফি কামাল, রাঙামাটি প্রেস ক্লাব সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল। আলোচনা সভার শুরু আগে মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন এডিপিসি কান্ট্রি প্রতিনিধি ড. নুর আহমেদ। এতে বলা হয় দেশে ৭.৫ মাত্রায় ভুমিকম্প হলে দেশে ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে। লক্ষাধিক মানুষ মারা যাবে। পায় ৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। দেশে বিপর্যয় দেখা দিবে।