বিএফডিসি’র অভিযানে কয়লারমুখ সীমান্তে ২৫০ কেজি মাছ আটক

॥ আলমগীর মানিক ॥

দেশের অন্যতম মিঠা পানির উৎস কাপ্তাই হ্রদ থেকে অবৈধভাবে আহরিত কার্প জাতীয়সহ প্রজাতির মাছ সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচার করছে একটি অসাধু চক্র। রাঙামাটিস্থ বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএফডিসি’র নিজস্ব লোকবল কম থাকার সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্রটি রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থান দিয়ে মাছ পাচার করায় বিএফডিসির মৎস্য অবতরণ ঘাটে কার্প জাতীয় মাছ কম আসে। যার ফলে এই প্রজাতির মাছ থেকে রাজস্ব আয়ও আশানুরূপ করতে পারছেনা বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি অনুধাবন করে সম্প্রতি রাঙামাটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আসা নৌবাহিনীর কর্মকর্তা রাঙামাটি বিএফডিসি’র ব্যবস্থাপক লেঃ কমান্ডার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মাছ পাচারকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করেছেন।

রোববার দিবাগত গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙামাটি থেকে গিয়ে খাগড়াছড়ির কয়লারমুখ সীমান্তে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের সহায়তা নিয়ে পাচারের সময় অন্তত আড়াইশো কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আটক করে। অভিযানের সময় টের পেয়ে পাচারকারিরা পালিয়ে যায়। আটককৃত মাছের বাজারমূল্য আনুমানিক এক লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ।

রাঙামাটি বিএফডিসি’র ব্যবস্থাপক লেঃ কমান্ডার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কয়লার মুখ এলাকাটি রাঙামাটিতে বেশ কয়েক ঘন্টার পথ। আমরা সন্ধ্যারাতে রাঙামাটিতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে মাছ পাচারের তথ্যটি পেয়েই আমি নিজেসহ আমার সহকর্মীদের নিয়ে খাগড়াছড়ির কয়লারমূখ এলাকায় গভীর রাতে পৌছাই। নিজস্ব সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে পাচারের সময় বিজিবি সদস্যদের মাধ্যমে উক্ত বিশেষভাবে প্যাকেটজাত অবস্থায় মাছ গুলো আটক করে রাঙামাটিতে নিয়ে আসি।

তিনি জানান, কাপ্তাই হ্রদ রক্ষণাবেক্ষণে সরকার নানামুখি উদ্যোগ নিয়েছে। বিএফডিসি প্রতি বছর হ্রদে প্রতিবছরই পোনা অবমুক্ত করছে যাতে করে এই মাছ আহরন করে অত্রাঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দারা জীবিকা নির্বাহ করে এবং এই মাছ রাজস্ব প্রদান করে বৈধভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করবে।

বিশাল সম্ভাবনাময় কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়ন, নৌবাহিনী, নৌ-পুলিশসহ স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে অবৈধ মাছ শিকারী ও অসাধু মৎস্য ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরো জোরদার করবে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন।