আজ পবিত্র আশুরা দিবস

॥ আবদুল নাঈম মোহন ॥

ইসলামিক বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং পবিত্র মাসগুলির মধ্যে একটি অন্যতম মাস হচ্ছে মহরম। প্রথা অনুযায়ী, অধিকাংশ সুন্নি ও সিয়া মুসলিম এই মাসে ১০ দিনের উপবাস রাখেন। মহরমের দিন, সকালে বা সন্ধ্যায় সিয়া শ্রেনির মুসলিমরা কারবালার যুদ্ধে হুসেনের মৃত্যুর শোকপালন করেন ও সকলে এক পদযাত্রায় যোগ দেন।

আজকের দিনের গুরত্ব ও ইতিহাসঃ
১. সমগ্র জগৎ সৃষ্টির দিন আজ।
২. এদিন কেয়ামত অনুষ্টিত হবে।
৩. হযরত আইয়ুব (আঃ) কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।
৪. হযরত ঈসা (আঃ) জন্ম গ্রহন করেছিলেন।
৫. হযরত দাউদ (আঃ) আল্লাহ্র কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করেছিলেন।
৬. হযতর সোলেমান (আঃ) তার হারানো রাজত পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছিলেন।
৭. হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন।
৮. হযরত ইয়াকুব (আঃ) তার হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ (আঃ) কে চল্লিশ বছর পর ফিরে পেয়েছিলেন।
৯. ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া শিশু মুসাকে গ্রহন করেছিলেন।
১০.মহা প্লাবনের সময় হযরত নূহ (আঃ) এর নৌকা তার অনুসারীদের নিয়ে জুদি পাহাড়ের পাদ দেশে এসে থেমেছিল।
১১. এই দিনে স্বেরসারী ইয়াজিদ বাহিনী বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর প্রাণাধিন দৌহিত্র অতুতভয় সৈনিক হযতর ইমাম হোসাই (রাঃ) কে একজন ব্যতিত সপরিবারে কারবালার মরু প্রান্তরে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।
এছাড়া হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আশুরার দিন নিজ পরিবার-পরিজনদের জন্য মুক্ত হাতে ব্যয় করবে, আল্লাহ্ তাকে সারা বছর সচ্ছলতা দান করবেন।

ইতিহাস থেকে জানায় যায়, দীর্য ১৪০০ বছর আগে আরব দেশের কারবালা প্রান্তরে হজরত মুহাম্মদের নাতি ইমাম হোসেনকে হঠাৎই এক অসম লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হয়। মরু প্রান্তরে অবরুদ্ধ অবস্থায় তৃষ্ণায় কাতর হয়ে বেশ কয়েকজন শিশু ও মহিলা-সহ সপরিবারে সপার্ষদে তিনি প্রাণ হারান। সেই দিনটি ছিল হিজরি মহরম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম স¤প্রদায় প্রতি বছর এই তারিখে মহরম পালনের মধ্যে দিয়ে সেদিনের ওই নির্মম ও হৃদয় বিদারক ঘটনাকে স্মরণ করে। অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেমন ইদলফেতর (ইদ) ও ইদুজ্জোহা (কোরবানী)-র মতো মহরম কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। নতুন কাপড় পড়া, খাওয়া-দাওয়া, সমবেত নামাজ পাঠ বা পাড়ায় পাড়ায় বড়দের মালা দেওয়ার মধ্যে দিয়ে এর সমাপ্তি হয় না। তথা কথিত শিক্ষিত ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমগণ নামাজ পাঠ, কোরান পাঠ, দরিদ্র অসহায়দের দান দক্ষিণার মধ্যে দিয়ে নীরব শ্রদ্ধা পালন করে থাকেন। কিন্তু বাকি মানুষেরা বানায় তাজিয়া। প্রতি বছর নতুন নতুন রূপে, নতুন আঙ্গিকে, নানান বৈচিত্রে গান গায় জারি লোক-গাথা। সঙ্গে চলে গান ও বাজনা, তলোয়ার, বল্লমের খেলা (যা আখড়া নামেই পরিচিত)। এটি একটি বহু প্রচলিত পুরনো কারবালা যুদ্ধের মহড়া, যা প্রতিবছর মহরমের দিন এর পুনরাবৃত্ত হয়ে থাকে।