খাগড়াছড়িতে পার্বত্য অধিকার ফোরামের সংবাদ সম্মেলন

॥ প্রেস বিজ্ঞপ্তি ॥

১৩ ই সেপ্টেম্বর’১৯ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার পার্বত্য অধিকার ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে পার্বত্য অধিকার ফোরাম এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সহ সাংগঠনিক রাজনৈতি অবস্থান আপনাদের মাধ্যমে জাতির নিকট তুলে ধরা। একই সাথে সঠিক তথ্য তুলে ধরে পার্বত্য অধিকার ফোরাম সম্প্রর্কে সকল ষড়যন্ত্র কে প্রতিহত করা। কারন একটি স্বার্থনৈষী মহল পার্বত্য অধিকার ফোরামের অগ্রযাত্রা রুখতে আমাদের পথ চলার ০৪ বছরে এসেও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সম্পাদক সহ নেতাকর্মীদের কে জড়িয়ে মিথ্যা মনগড়া অপবাদ দিচ্ছেন। পার্বত্য অধিকার ফোরাম কে বানাচ্ছেন কখনো বর্তমান এমপি বাবু কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরার সংগঠন, কখনো সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূইয়ার সংগঠন, কখনো পার্বত্য নিউজের সম্পাদক মেহেদী পলাশের সংগঠন, কখনো পার্বত্য অধিকার ফোরাম কে চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা বিভিন্ন মিথ্যা-বানোয়াট মামলা সাজিয়ে পার্বত্য অধিকার ফোরামের নেতাকর্মীদের কে রাজনীতি থেকে সড়ানোর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

এমন একটা সময়ে আমরা সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হয়েছি যে সময়টাতে পার্বত্য চটগ্রাম এক ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাওয়া হলেও অন্যদিকে পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ও অবৈধ ভারি মরনাস্ত্রের সংখ্যা ভারছে , নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর হামলা হচ্ছে। দীর্ঘ হচ্ছে পাহাড়ে লাশের সংখ্যা। এমন কঠিন মহুর্তে পাহাড় কে শান্তিপ্রিয় করার প্রয়াস যেখানে লক্ষণীয় হওয়ার কথা , ঠিক তখন ই সবচেয়ে স্পর্শকাতর ভূমি বিরোধ কে উস্কে দিয়ে পাহাড় কে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারন ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য সকলের অংশগ্রহণমূলক সহযোগীতা জরুরী ছিলো। এ সব কিছুর উদ্দেশ্য পাহাড়ের সমস্যা কে দীর্ঘায়িত করে নিজেদের পায়দা লুটা। ঐই সকল স্বার্থনৈষী মহলের ইন্ধনে পার্বত্য অধিকার ফোরামের মত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের চেতনার সংগঠন গুলো কে ধ্বংশের চেষ্টা চলছে।

গত ২০১৬ সালের ২৩ শে মে, ০৯ জৈষ্ঠ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ রোজ সোমবার পার্বত্য অধিকার ফোরাম নামক সংগঠন ছোট পরিসরে গঠিত হয়। যদিও পার্বত্য অধিকার ফোরামের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাকর্মীদের বেশ কয়েকজন পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ নামক সংগঠনে ছিলেন। পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদে থাকাকালিন একাধিক সাংগঠনিক বিশৃংলা থাকায় পার্বত্য অধিকার ফোরাম নামক সংগঠনটি সৃষ্টি হলেও বৃহত্তর জাতীসত্তার স্বার্থে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ সহ মিলে মিশে কাজ করার চেষ্টা করা হয়। পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ হতে বিতর্কিত জামাত শিবির নেতাকর্মীদের পদ পদবী হতে সরানো, শৃংখলা রক্ষায় একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও বাঙালি ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালিন রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী ০৮ দফাকে যুগোপযোগী করার দাবি প্রত্যাখ্যান হলে ২০১৭ সালের মে মাসে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জামাত শিবির পন্থিদের অবাঞ্চিত ঘোষনা করে প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব মাঈন উদ্দীনের নেতৃত্বে পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ নামে বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম শুরু করে। তবে সম্পূর্ন অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে ছাত্র সংগঠন হতে বাঙালি শব্দটি বিলুপ্ত করা হয়। বর্তমানে পার্বত্য অধিকার ফোরাম সম্পূর্ণরুপে একটি সতন্ত্র সংগঠন। আমরা কোন দল বা সংগঠনের সহযোগী বা কোন ব্যক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অথবা পরিচালিত সংগঠন নই।

সাংগঠনিক শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে প্রণয়ন করে ০১ টি পূর্নাঙ্গ গঠনতন্ত্র । গঠনতন্ত্রে রয়েছে পার্বত্য অধিকার ফোরামের সৃষ্টির পেক্ষাপট ও প্রাথমিক ঘোষনা এবং ৩৩ টি ধারা, ৭৮ টি উপধারা, প্রস্তাবিত ০৫ টি সহযোগী অঙ্গ সংগঠন, ০৫ জন উপদেষ্টা, ৩৩ জন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের ছবি প্রকাশ করা হয়।

জাতির দর্পণ,
পার্বত্য অধিকার ফোরামের পূর্নাঙ্গ গঠনতন্ত্র টি হচ্ছে সংগঠন পরিচালনার একমাত্র চালিকা শক্তি। পার্বত্য অধিকার ফোরামের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সহ কয়েকটি ধারা উপধারা আংশিক তুলে ধরা হেেলা। পার্বত্য অধিকার ফোরাম হলো সম্পূর্নরুপে অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শে পরিচারিত একটি সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ই হলো পাহাড়ে বসবাস কারী ১৩-১৫ টি জনগোষ্ঠি সহ পিছিয়ে পড়া বাঙালি জনগোষ্ঠির মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ জনমত হিসাবে কাজ করা।

পার্বত্য অধিকার ফোরাম ম্ুিক্তযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা , গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপোষ করবে না। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সর্বদা সম্মান প্রদর্শন করবো। এই সংগঠন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনসংখ্যানুপাতে শিক্ষাক্ষেত্রে ভর্তি ও ব্যবসা বানিজ্যে সমান সুযোগ প্রদান ও চাকুরী ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রদানের দাবী প্রতিষ্ঠায় আইনগত লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলন কর্মসূচি পরিচালনা করবে। এই সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যস্থানে সকল মানুষের জীবন জীবিকার প্রতি হুমকি স্বরুপ কোন কার্যক্রম ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেনা। একই সাথে যে সকল উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন ও গোষ্টি কর্তৃক দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবন জীবিকায় বাধা প্রদান করবে সেগুলোরও জোর প্রতিবাদ জানাবে। নি¤েœ নি¤েœর মৌলিক ০৬ দফা ই হবে পার্বত্য অধিকার ফোরামের আন্দোলনের মূল দফা:-
১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭’ র অসাংবিধানিক, বিতর্কিত ধারা সমূহ সংশোধন করে জেলা পরিষদ সহ চুক্তির আওতাভূক্ত প্রতিষ্ঠান গুলোতে বাঙালি জনগণের প্রতিনিধিদের সমান ভাবে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
২. দীঘিনালার বাবুছড়া-সোনামিয়া টিলার ৮১২ টি পরিবার সহ গুচ্ছগ্রামে বন্দি ৩৮ হাজার ১৫৬ টি বাঙালি পরিবারের জন্য বরাদ্ধকৃত বসত ভিটা ও চাষের জমি সহ মোট ৫ একর জায়গায় যথাযথ ভাবে পূর্নবহাল ও পূনর্বাসন করতে হবে।
ক) সেই সাথে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দ্বারা (১৯৭৫-১৯৯৬)পর্যন্ত সংগঠিত মানবতা বিরোধী গনহত্যা গুলোর ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের বিচার করতে হবে।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পাহাড়ি বাঙালি সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি গঠন করে ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. যাচাই বাচাই ব্যতিত নতুন করে কোন উপজাতি/ভিনদেশী পরিবার কে পূনর্বাসন করা যাবেনা।
৫. বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় ও বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টি কে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে আনতে নি¤েœাক্ত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ক) পর্যাপ্ত অবকাঠামো সহ তিন পার্বত্য জেলায় একটি করে বিশ^বিদ্যালয় কলেজ স্থাপন করতে হবে।
খ) প্রতিটি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন একটি করে বাঙালি ছাত্র ও ছাত্রী নিবাস নির্মাণ করতে হবে।
গ) তিন পার্বত্য জেলায় জন সংখ্যানুপাতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভর্তি ও কর্মক্ষেত্রে সমভাবে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
ঘ) সকল বিশ^বিদ্যালয় সহ উচ্চ শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে উপজাতীয়দের ন্যায় সমান সংখ্যক “অনগ্রসর বাঙালি কোটা” চালু করতে হবে।

উপরোক্ত আন্দোলন কর্মসূচি পরিচালনার জন্য পার্বত্য অধিকার ফোরামের অর্থনৈতিক তহবিল নি¤েœাক্ত খাত হতে সংগৃহিত হয়।
১. সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন ফি
২. সদস্যের মাসিক চাঁদা,
৩. সংগঠনের বিভিন্ন প্রকাশনা বিক্রয় হতে প্রাপ্ত অর্থ
৪. শুভাকাঙ্খিদের প্রদত্ত অনুদান।

পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও আমাদের নেতাকর্মীরা কোন ধরনের চাঁদাবাজি সহ বেআইনী কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত নয়। পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও আমাদের নেতাকর্মীদের সম্প্রর্কে উপরোক্ত অপচার বন্ধ ও মিথ্যা বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবী জানাচ্ছি।