পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনে এলাকাবাসীদের নিয়ে সড়ক অবরোধ করবোঃ দীপেন দেওয়ান

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

আদালত ও থানা পুলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও রাঙামাটি শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে কোটি টাকা দামের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে একজন আইনজ্ঞ হয়েও অসহায়বোধ করছেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন সাবেক যুগ্ন জেলা জজ ও রাঙামাটি জেলা জজ আদালতের আইনজীবি এডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

শনিবার রাঙামাটি শহরস্থ মন্ত্রী পাড়ার নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দীপেন দেওয়ান প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন। অন্যথায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীদের নিয়ে সড়কে অবস্থান করে অবরোধ করবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা প্রদান করেন।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দীপেন দেওয়ান অভিযোগ করেন তার পিতার রেখে যাওয়া কলেজ গেইটস্থ মূল সড়কের পাশের জমিটি আমাদের দখলে আছে এবং উক্ত জমির উপর নির্মিত দোকান থেকে নিয়মিত ভাড়াও আমরা নিয়ে আসছি দীর্ঘকাল থেকে। জনৈক ডাঃ একে দেওয়ানের মেয়ের জামাই নিজেদের হঠাৎ করে এসে উক্ত জমিটি নিজেদের বলে দাবি করায় বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীনদলের তিন নেতার মাধ্যমে উক্ত জমিটি রাতের অন্ধকারে দখল করে নিয়েছে একে দেওয়ানের মেয়ের জামাই। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পেশির জোর খাটিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে উক্ত জমিটি দখল নেওয়ার অভিযোগ করে দীপেন দেওয়ান বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে রাঙামাটি শহরের কলেজ গেটে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার ও দখলদার ৩ আওয়ামীলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা না হলে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আগামী মঙ্গলবার হতে রাঙামাটি- চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করবে কলেজ গেট এলাকাবাসী। শনিবার সকালে নিজ বাস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সাবেক যগ্ম জজ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

সংবাদ সম্মেলনে দীপেন দেওয়ান জানান, গত শুক্রবার রাতে কলেজ গেটের বাসিন্দা জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম স্বপন, পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরের, স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. মোকাররম হোসেনের নেতৃত্বে কলেজ গেট পাহাড়িকা বাস কাউন্টারের পাশে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে জমি বেদখল করে দোকান নির্মাণ করা হয়। বেদখলের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দীপেন দেওয়ান বলেন, ১৯৮০ পূর্ববর্তী সময়ে জমিটি তার বাবা সুবিমল দেওয়ানের বন্দোবস্তি ছিল। পরবর্তী জমিটি রাঙামাটি শহর পরিকল্পনার আওতায় পড়লে বন্দোবস্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত হলেও জমিটি বর্তমানে আমাদের দখলে আছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে জমিটির মালিকানা দাবী করছে প্রয়াত ডা. একে দেওয়ান। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির পর আমাদের পক্ষে রায় দেয় আদালত।

কিন্তু সম্প্রতি কয়েক দিন থেকে একে দেওয়ানের জামাই অব সেনা কর্মকর্তা মো. আবু ইসহাক ইব্রাহিম জমিটি বেদখলের চেষ্টা শুরু করে। এক পর্যায়ে তিনি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সহায়তায় জোর করে বেদখল করছে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। অথচ এ জমি বিরোধ নিয়ে ঐ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা আছে। সবকিছু ভঙ্গ করে এ বেদখল করা হচ্ছে। এ অবস্থায় থাকলে পাহাড়ে কোন ভুমি মালিক তাদের ভুমি রক্ষা করতে পারবে না। সুষ্ঠ বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আগামী সোমবারের মধ্যে যদি বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার ও দখলদার ৩ আওয়ামীলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা না হয় তাহলে মঙ্গলবার হতে তারা রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করবে।

প্রসঙ্গত গত শুক্রবার সকালে কলেজ গেট পাহাড়িকা বাস কাউন্টারের পাশে একটি কাঠের দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনা দেখা দেয়। একপক্ষ কাজ করতে গেলে অপর পক্ষ গিয়ে বাধা দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে বির্তকিত স্থানে নোটিশ টানায়। সে নোটিশ শুক্রবার রাতে ছিড়ে ফেলে দিয়ে দোকান নির্মাণ করে দখলদাররা।

কোতয়ালী থানার ওসি মীর জাহেদুল হক বলেন, বিরোধপূর্ণ এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশের কাছে আদালতের একটি আদেশ এসেছে। শুক্রবার শনিবার বন্ধ গেল। এর ভিতরে কলেজ গেটের বিরোধপুর্ণ ভুমি নিয়ে কে আইন ভঙ্গ করল তা তদন্ত করে পুলিশ প্রতিবেদন দেবে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন দলের নেতা স্বপন ও মোকাররম উভয়ে প্রতিবেদককে জানান, তারা কেউই এই দখলের ব্যাপারে কিছুই জানেন না।