আইনী স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার দাবিতে রাঙ্গামাটির নব বিবাহিত দম্পতির সংবাদ সম্মেলন

॥ বিশেষ প্রতিবেদক ॥

১৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস.আর হল মিলনায়তনে বিকেল ৪টায় সদ্য বিবাহিত নিয়াত আহামদ ও আজরা আতিকা আনান তাদের বিবাহিত জীবনের আইনী-সামাজিক স্বীকৃতি, প্রশাসনিক নিরাপত্তা এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিয়াত আহামদের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী আজরা আতিকা আনান। এসময় উপস্থিত ছিলেন আজরা আতিকা আনান‘র স্বামী নিয়াত আহামদ ও নিয়াত আহামদের মামা সাবেক ছাত্রনেতা মো: লিয়াকত আলী খান প্রমুখ।

আতিকা ও নিয়াদের জন্ম সনদ

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজরা আতিকা আনান বলেন, আমি, আজরা আতিকা আনান, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার একজন নারী। আমি বর্তমানে ঢাকাস্থ লালমাটিয়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্রী হই। আমি রাঙ্গামাটি লেকাস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে চলতি বছরের এস.এস.সি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমি যখন ৬ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিলাম তখন থেকে কাঠালতলী নিবাসী নিয়াত আহাম্মদের সাথে আমার পরিচয় হয় এবং তার কথা বার্তা , আচার-আচরণে মুগ্ধ হয়ে যাই। আমাদের দুইজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তখন থেকে সে আমাকে ভাল করে লেখা পড়া করার জন্য উৎসাহ দিতে থাকে। আমাদের দুইজনের বন্ধুত্বের কথা আমার পরিবার জানতে পারলে আমার মা আমাকে এবং আমার বন্ধু নিয়াত আহাম্মদকে দুই বছর অপেক্ষা করতে বলেন। আমি এবং নিয়াত মায়ের কথা মেনে নিই।

আমরা দুইজনই নিজেদের লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করি। কিন্তু আমাদের দুইজনের সম্পর্ক আমার বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ও মামারা যথাক্রমে মোঃ খোরশেদ আলম বাবু ও সাইফুল আলম রাশেদ ও শহীদুল আলম রাজু মেনে নিতে রাজি নয়। গত পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে আমি আমার বিদ্যাপীঠ লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে ছুটি কাটাতে আসলে আমার মেজ মামা সাইফুল আলম রাশেদ আমার উপর শারিরীক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করে আমার বন্ধু নিয়াত আহাম্মদকে ভূলে যেতে বলে। এতে আমি আমার বন্ধুকে ভূলে যেতে পারবো না বললেই সে আমাকে বাড়ীতে আটকিয়ে রেখে অক্টোবর ২০১৯ সালের মধ্যে আমাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেবে বলে সাফ জানিয়ে দেয় এবং ঢাকাস্থ আমার কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

গত ০৯/০৯/২০১৯ইংরেজী আমার মামা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র পক্ষকে দেখাতে ঠিক করলে আমি গত ০৮/০৯/২০১৯ তারিখ কৌশলে বাড়ী থেকে বের হয়ে আমার বন্ধু নিয়াত আহাম্মদের সাথে যোগাযোগ করি- সে যেন আমার সাথে দেখা করে। প্রায় দুই ঘন্টার পর সে আমার সাথে দেখা করলে আমি তাকে নিয়ে রাঙ্গামাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলি। কিন্তু সে আমাকে আমার মায়ের কথামত দুই বছর অপেক্ষা করতে বলে। এতে আমি আমার মামা সাইফুল আলম রাশেদ কর্তৃক আমার উপর মানসিক ও শারিরীক অত্যাচারসহ আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য আগামীকাল ০৯/০৯/২০১৯ তারিখ পাত্র পক্ষকে আমার বাড়ীতে আসার কথা বলে। একথা শুনে তিনি আমাকে বলেন আমার কাছে কোন টাকা-পয়সা নেই আমি তোমাকে নিয়ে কোথায় যাব? এতে আমার রাগ হই এবং আমি তাকে স্পষ্ঠভাবে বলি যে হয়তো আমাকে নিয়ে যাও না হয় আমি এখনই আত্মহত্যা করব। একথা শুনে সে ঘাবড়ে যায় এবং তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি গত ০৫/০৯/২০১৯ইংরেজী বন্ধক দিয়ে পাওয়া যে টাকা তার কাছে রক্ষিত টাকা নিয়ে আমি এবং সে রাঙ্গামাটি ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসি এবং আগ্রাবাদ কাজী অফিসে গিয়ে আমার প্রকৃত জন্ম তারিখ ৮ই ফেব্রুয়ারী ২০০০ ইংরেজী উল্লেখ পূর্বক ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা কাবিন মূলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই।

কিন্তু ইতিমধ্যে আমি জানতে পেরেছি নিয়াত আহাম্মদ আমাকে অপহরণ করেছে মর্মে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালী থানায় আমার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপহরণ মামলা করেছে। কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৯, তারিখ: ১০/০৯/২০১৯ইং, মামলার এজাহারে নিয়াত আহাম্মদের পিতা নেছার আহাম্মদ , বড় বোন লাভলী, মাতা: রেহেনা বেগম ও মেজবোন কলিকে আসামী করা হয়েছে, যা অনবিপ্রেত ও সর্বমিথ্যে কারণ আমাদের রাঙ্গামাটি ছাড়ার ব্যাপারে তারা কিছুই জানতো না।

এটা অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমার পরিবার ও মামাদের সিদ্ধান্ত হয় অক্টোবর ২০১৯ মাসের মধ্যে আমাকে বিয়ে দেওয়ার, মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছে আমি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও আমার বয়স সার্টিফিকেট অনুসারে ১৬ বছর। কিন্তু আমার জানামতে আমি ছোটকালে প্রায় অসুস্থ থাকতাম। তাই ৬ বছর বয়সে আমাকে প্লে-ক্লাসে ভর্তি করা হয় এবং ১৪ বছর বয়সে আমি পঞ্চম শ্রেণি ও ১৯ বছর বয়সে আমি এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। আমি দৃঢ়তারসাথে বলতে চাই আমার জানামতে আমার প্রকৃত জন্মসাল ০৮/০২/২০০০ইংরেজী। অথচ উপরোল্লিখিত মামলায় আমাকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে আমার স্কুল সার্টিফিকেট ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু পারিবারিকভাবে আগামী অক্টোবর ২০১৯ সালে আমাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আমার পরিবার ও মামারা। তাহলে আমি আপনাদের কাছে জানতে চায় আগামী অক্টোবর ২০১৯ইংরেজী কি আমি অপ্রাপ্ত বয়স্ক থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যেতাম? এ প্রশ্নটি আমি আপনাদের কাছে রাখছি।

আমি লেখাপড়া করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই বলেই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে মুক্তি পেতে আমি নিয়াত আহাম্মদকে আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছি। এক্ষেত্রে তার পরিবারের কোন সংশ্লিষ্টতা বা যোগসূত্র নেই। আমি বিশ্বাস করি আমার স্বামী নিয়াত আহাম্মদের হাত ধরে আমি আমার ভবিষ্যৎ গড়তে পরবো। তাই আপনাদের মাধ্যমে মহামান্য আদালতের সন্মানিত বিচারক, প্রশাসনের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সহ সকল সচেতন জনগনের সহযোগিতা আমি কামনা করছি।

একই সাথে আমার অপহরণের ব্যাপারে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিয়াত আহাম্মদের পরিবারের সদস্যদের প্রশাসনিক ও আমার মামা সাইফুল আলম রাশেদ এর সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি দিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষ তথা সন্মানিত আদালত ও পুলিশ বাহিনীর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি আমার স্বামীকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে যেতে জীবননাশের সম্ভাবনা দেখছি। কারণ আমার মামা সাইফুল আলম রাশেদ রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। তার নেতৃত্বেই অনেক সন্ত্রাসী বাহিনী কাজ করে।

তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ২ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সন্মানিত ডিআইজি অথবা এডিশনাল ডিআইজির সাথে সাক্ষাৎ করে নিরাপদে আদালতে যাতে হাজির হতে পারি, তা যেন নিশ্চিত করে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই তাদের কাছে নিরাপত্তা চাইব। আশাকরি তারা আমাদের নিরাশ করবেন না এবং আদালতে হাজির হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করবেন। আমি আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চায় যেন আমাদের শিক্ষা ও দাম্পত্য জীবন সুন্দর ও সুখী হয়। মহান আল্লাহ্ আপনাদের সকলের সহায় হউন।

এদিকে এই বিষয়ে আতিকা’র মামা রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইফুল আলম রাশেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আতিকা এখনো বাচ্চা মেয়ে। ওকে ৮ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এখন নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে এই গুলো বলানো হচ্ছে। আমিসহ আমার পুরা ফ্যামিলি এখনো তাকে পাগলের মত খুঁজছি। নিয়া্দের মত একটা ফালতু ছেলের সাথে আমরা তাকে নিরাপদ মনে করছি না।

বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রলীগের নাম উঠে আসা এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহারের কথা উল্লেখ থাকার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে রাশেদ বলেন, এখানে আমার দলের নাম উঠে আসার কোন মানে হয় না। ছাত্রলীগ কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকে না। বরঞ্চ নিয়াদের মাম তাঁর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপারটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।