ভূমির মালিকানা দাবী করে একে দেওয়ানের পরিবারের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙ্গামাটিতে নিজেদের ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে, শহরের প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রয়াত ডা. একে দেওয়ানের পরিবার। একে দেওয়ানের নামে রাঙ্গামাটি শহরের ১০২ নম্বর রাঙ্গাপানি মৌজার কলেজগেট এলাকায় ৫৮ শতক জায়গার বন্তোবস্তির রেকর্ড রয়েছে।

সকাল ১১টায় শহরের কলেজগেট এলাকার আবাসিক হোটেল মোটেল জজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা অভিযোগ করে ডা. একে দেওয়ানের ছেলে অদ্বিত দেওয়ান, মেয়ে অপরাজিতা দেওয়ান ও তার জামাই অনিমেষ চাকমা বলেন, সুবিমল দেওয়ান তৎকালীন আমিন ও কানুনগোর যোগসাজশে ২ দশমিক ২২ একর জমির স্থায়ী বন্দোবস্তির রেকর্ডভূক্ত করিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আবেদন করা হলে তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় তৎকালীন জেলা প্রশাসকের আদেশে পুনরায় আমাদের বাবা একে দেওয়ানের নামে তর্কিত ৫৮ শতক জায়গা রেকর্ডভূক্ত করা হয় এবং অসাধুমূলক কার্যকলাপে জড়িত আমিন ও কানুনগোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেন জেলা প্রশাসক।

তারা বলেন, সুবিমল দেওয়ানের পক্ষে করা আপিলে কোনো রকম যুক্তি ও ভিত্তি না থাকায় আদালত সব সময় আমাদের পক্ষে রায় দেন। সর্বশেষ বিচারাধীন মামলাতেও আমাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন আদালত। আদালতের রায়ে আমরা আমাদের জায়গাটি দখলে নিতে চাইছি। কিন্তু শুধু চাঁদাবাজির উদ্দেশে কাজ করতে গেলে দলবল নিয়ে আমাদেরকে বাধা দিতে যান দীপেন দেওয়ান। তিনি আমাদের কাছে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছেন। দাবি করা টাকা দিলে জায়গাটি ছেড়ে দেবেন বলছেন দীপেন দেওয়ান।

তারা জানান, ১৯৬৯ সালের দিকে ওই এলাকায় ১৭১ নম্বর ডাগে ১২ নম্বর হোল্ডিংয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক থেকে ৫৮ শতক জমি বন্দোবস্তি পান রাঙ্গামাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ডা. একে দেওয়ান। পরে জেলা প্রশাসক বরাবরে একে দেওয়ানের জমির পাশে ১ দশমিক ৬৪ একর জমির বেন্দাবস্তির আবেদন করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতীয় বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী) সুবিমল দেওয়ান। আবেদন করা জমির মধ্যে একে দেওয়ানের ৫৮ শতক জমি ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে একে দেওয়ানের ৫৮ শতক জমিসহ দুই দশমিক ২২ একর জমির বন্দোবস্তি পেয়েছিলেন সুবিমল দেওয়ান। এরপর সংশোধনের জন্য আবেদন করা হলে তদন্তসাপেক্ষে সত্যতা পাওয়ায় তর্কিত ৫৮ শতক জায়গা পুনরায় একে দেওয়ানের নামে রেকর্ডভূক্ত করে অসাধুমূলক কার্যকলাপের দায়ে জড়িত আমিন ও কানুনগোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। এরপর উচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন সুবিমল দেওয়ান। সেই থেকে শুরু ওই দুই প্রভাবশালী পরিবারের মধ্যকার ভূমিবিরোধ আজও মিটছে না। এরই মধ্যে পরলোকগমণ করেছেন, সুবিমল দেওয়ান ও ডা. একে দেওয়ান উভয়ে। বর্তমানে বিরোধ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে উভয় পরিবারের সদস্যরা।

বিষয়টি নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সুবিমল দেওয়ানের ছেলে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। ওই সময় তিনি বলেন, তর্কিত জায়গাটি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন আছে। আমরা আদালতের রায় মেনে নেব। কিন্তু একে দেওয়ানের ছেলে, মেয়ে ও জামাই আইন অমান্য করে লোক লাগিয়ে দিয়ে জায়গাটি জোরপূর্বক বেদখল করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি এবং আমাদের আবেদনে জায়গাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন আদালত।