মোনঘর শিশু সদনের নব নির্মিত ছাত্রবাস শান্তিভবনের উদ্বোধন করলেন দীপংকর তালুকদার

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙ্গামাটি ২৯৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি বলেছেন, পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পরা মানুষদেরকে সমাজের সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মোনঘর প্রতিষ্ঠানটি একটি উজ্জ্বল বাতিঘর। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশ বিদেশে অনেকেই বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা পদে চাকুরিরত রয়েছেন এবং তারা এই এলাকার এবং সমাজের জন্য কাজ করছেন।

শুক্রবার (২০সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি শহরে দরিদ্র পাহাড়ি শিশু কিশোরদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোনঘর আবাসিক শিশু সদনের নবনির্মিত ছাত্রাবাস শান্তি ভবনের উদ্বোধন, ইনস্টিউট অব টেকনোলজির নতুন শিক্ষাবর্ষের শুভ সূচনা ও শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরনী ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এসব কথা বলেন।

মনোঘরের শ্রদ্ধালংকার মহাথের ভিক্ষুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আমেরিকার ক্যাম্পবেল ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ডুগলেস্ এ মুজিন সুনিম, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা পরিষদ সদস্য সাধন মনি চাকমা, রাঙ্গামাটি ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র জামাল উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান দূর্গেশ্বর চাকমা, সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মোনঘর কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারন সম্পাদক কীর্তি নিশান চাকমা।

সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন, আমরা রাজনীতি করি কারোর উপর কর্তৃত্ব খাটানোর জন্য নয়, মানুষের মন জয় করে মানুষের কল্যানের জন্য। আমরা পথ চলছি মানুষের এই বিশ্বাসটুকু নিয়ে। যার কারনে এবারের নির্বাচনে আপনাদের আর্শিরবাদে আমি আবারো নির্বাচিত হয়েছি। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন যাতে করে আমি সাধারণ মানুষের দাবী দাওয়াগুলো পূরন করতে পারি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্যবাসিদের প্রতি খুবই আন্তরিক। তাই এ অঞ্চলের মানুষের কল্যান ও ভাগ্য উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি মনোঘরের প্রাতিষ্ঠানিক যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা পর্যায়ক্রমে নিরসন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। মনোঘরের শিক্ষার্থীদের আগামীতে আরো ভালো ফলাফল অর্জন করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি তিনি বিশেষ নজর রাখারও পরামর্শ দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, সমতল জেলার ন্যয় এই পার্বত্য জেলাগুলোকে সার্বিক দিক দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই তিনি এখানকার মানুষের সামাজিক অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখতে এ জেলায় এসেছিলেন। কিন্তু স্বাধনিতা বিরোধী চক্রের দোসররা তাকে নির্মমভাকে হত্যা করায় আমাদের স্বপ্ন ধুলে মিশে গিয়েছিল। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা তার পিতার সে স্বপ্ন পূরনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং দেশও এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও কারিগরি শিক্ষাও তোমাদের গ্রহণ করতে হবে। কারণ এ দেশ থেকে বিদেশে কারিগরিতে দক্ষ শ্রমিক নিয়ে যাচ্ছে। ওখানকার বেতন দেশের চাইতে অনেক অনেকগুন বেশী। তিনি মনোঘরের শিক্ষার্থীদের খাইখরচের জন্য পরিষদ হতে সহযোগিতা প্রদানের আম্বাস দেন। পরে বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও মনোঘর স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত দুই শিক্ষককে চেক বিতরণ করেন অতিথিরা ।

উল্লেখ, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান বুদ্ধিস্ট গ্লোবাল রিলিফ এর অর্থায়নে মোনঘর শিশু সদনের নব নির্মিত ৩তলা ছাত্রবাস শান্তিভবনটি নির্মাণ করা হয়।