চাদাঁ না দেয়ায় কাউখালীতে যান চলাচল বন্ধঃ ব্যাতিক্রম হলে গুলি করার হুমকি!

॥ সিনিয়র প্রতিবেদক – কাউখালী ॥

পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় ও অব্যাহত হুমকির কারনে গত দুইমাস যাবত কাউখালী-কাশখালী ভায়া বটতলী সড়কে সিএনজি অটোরিক্য্রা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারন মানুষ এবং সিএনজি অটোরিক্য্রা চালকরা। এতোদিন বিষয়টি নিয়ে দেন দরবার চলতে থাকলেও কোন সুরাহা না হওয়ায় গতকাল শুক্রবার থেকে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।

কাউখালী উপজেলা সদর থেকে কাশখালী মসজিদ পর্যন্ত সামান্য এলাকায় সিএনজি অটোরিক্য্রা চলাচলের সীমারেখা নির্ধারন করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এর ব্যাতিক্রম ঘটলে সরাসরি গুলির হুমকীও দিয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক জানিয়েছেন। এ যেন ভিন্ন কোন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সীমানা বা নো মেনস ল্যান্ড। অপরদিকে কাউখালী,কাশখালী এলাকার সাধারন ব্যবসায়ীদের নিকট চাঁদা চেয়ে চিঠি দিয়েছে সশস্ত্র এ গ্রুপটি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। যে কোন মূহুর্তে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। তবে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদ উল্লাহ এ ধরনের কোন সংবাদ পাননি বলে জানান।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাউখালী সদর থেকে কাশখালী হয়ে দূর্গম বটতলী পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। পূর্বে কাশখালী মসজিদ মার্কেট এলাকা পর্যন্ত গাড়ী চলাচল করলেও পরবর্তী রাস্তা সম্প্রসারিত হওয়ায় উপজেলা সদর থেকে বটতলী পর্যন্ত সিএনজি অটোরিক্য্রা সহ অন্যান্য যান চলাচল শুরু করে। কিন্তু বছরের শুরু থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা শ্রেণী ভেদে প্রতি যানবাহনের চাঁদা নির্ধারণ করে দেয়। এ সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালকদের ডেকে নিয়ে বিগত দু’বছর ও চলতি বকেয়াসহ মাথাপিছু তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করে বিশেষ টোকেন নিতে বলে। এতে চালকরা রাজি না হওয়ায় বটতলী সড়কে গাড়ী চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

কাউখালী উপজেলা সদর থেকে কাশখালী মসজিদ মার্কেট বাঙ্গালী পাড়া পর্যন্ত গাড়ী চলাচল করলেও উপজাতীয় যাত্রীদের গাড়ীতে উঠতে নিষেধ করে দেয়। সন্ত্রাসীদের ভয় উপেক্ষা করে কাশখালী পর্যন্ত কিছু সিএনজিতে উঠলেও তাদের আতংকে থাকতে হয় তাদের। ফলে সদর থেকে বটতলী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার পাহাড়ের উঁচু নিচু রাস্তার পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হচ্ছে। সাপ্তাহিক হাঁটের দিনে সবচেয়ে বেশী দূর্ভোগে পড়তে হয় এসব অসহায় মানুষগুলোকে।

কাশখালী-বটতলী সড়কের সিএনজি চালক উচিংমং মারমা (৪০) জানান, সারাদিন গাড়ী চালিয়ে সংসার ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। তাদের এহেন হটকারী সিদ্ধান্তে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি। বটতলীর কৃষক চাইহ্লাঅং মারমা (৪৫) জানান, গাড়ী না থাকায় ভোর ৫টায় তরকারী নিয়ে পায়ে হেঁটে বাজারে এসেছি। অনেক কষ্ট হয়েছে। হাটহাজারীর একটি স্কুলে পড়ে বটতলীর মনু মারমা (১২) জানান, অনেকদিন পর বাড়ী এসেছি বেড়াতে। পায়ে হেঁেট বাড়ী যেতে হবে শুনে অকে কষ্ট হচ্ছে। তবুও যেতে হবে কিছু করার নেই। যাত্রী না থাকায় এ সড়কের শতাধিক সিএনজি চালকদের দিনভর বেকার বসে থাকতে হচ্ছে। চালক বেলাল জানান, সন্ধ্যা হলেই মালিকের গাড়ীর ভাড়া পরিশোধ করে খালি হাতে বাড়ী ফিরতে হচ্ছে।

এদিকে যৌথবাহিনীর সন্ত্রাস বিরোধী অব্যাহত অভিযানে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে পাহাড়ের আঞ্চলিক শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা। গত কয়েক মাসে কাউখালীর বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নগদ টাকা বেশ কয়জন ই চাঁদাবাজ আটক হয়। এর পর থেকে চাঁদা নির্ভর ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তারা মরণ কামড় দিচ্ছে সাধারণ মানুষের উপর। বাৎসরিক ২০ হাজার নির্ধারণ করে গত ০৫-০৮-২০১৯ তারিখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। যেসব ব্যবসায়ী টাকা পরিশোধ করবে না তাদের দোকানে কোন পাহাড়ী বাজার করতে বারণ করা হয়েছে। আতংকিত সাধারণ পাহাড়ীরা তাদের কথার বাইরে গেলে তালিকা করে করে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

কাউখালী স্থায়ী ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন জানান, ব্যবসা বানিজ্যে এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এসব এলাকা থেকে প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্প পূণঃস্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।
গতকাল রাতে এ রির্পোট লেখার সময় কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদ উল্লাহ জানিয়েছেন এ বিষয়ে খবরা খবর নিয়ে কেউ কোন প্রকার অভিযোগ দায়ের করিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।