গ্রামীণ বন ও পানির উৎসস্থল রক্ষার্থে অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, গ্রামীণ বন, পানির উৎসস্থল ঝিরি, ঝর্ণা রক্ষার্থে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, পাহাড়ের বন উজাড় হওয়ার ফলে জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে চলেছে। এ দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে সংরক্ষিত ও গ্রামীণ বনগুলোকে রক্ষা করতে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (০৩অক্টোবর) সকালে এসআইডি-সিএইচটি-ইউএনডিপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর প্রকল্পের আওতায় ভিলেজ কমন ফরেস্ট (ভিসিএফ) কমুনিটিজ কমিটি ও সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তাদের সাথে গ্রামীণ সাধারণ বন ও পানির উৎসস্থল রক্ষার্থে দিনব্যাপী অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া’র সভাপতিত্বে জেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চাথোয়াই প্রু মারমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য সান্তনা চাকমা, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা দাউদ হোসেন চৌধুরী, এসআইডি-সিএইচটি-ইউএনডিপি’র ন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রসেনজিৎ চাকমা’সহ জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

কর্মশালায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক মৌজা বন রক্ষার পাশাপাশি ভিসিএফ কমুনিটিজ সুফলভোগীদের আয়বর্ধনমূলক কাজের জন্য পার্বত্য মন্ত্রণালয় হতে জেলা পরিষদের মাধ্যমে ইতিমধ্যে জেলার ৬টি উপজেলার ১৫১২টি পরিবারের প্রত্যেককে ৭হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। যার মাধ্যমে তারা বাড়ীর পাশে বা পরিত্যক্ত পাহাড়ে চাষাবাদের পাশাপাশি গবাদী পশু পালন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। তিনি গত বছর ভূমিধ্বসে ১২০জনের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে বলেন, আগে কখনো এ ধরনের অতিবৃষ্টি বা বন্যা হতোনা। বন উজাড় হওয়ার ফলেই এধরনের ঘটনা ঘটছে। তাই গ্রামীণ পর্যায়ে যেসকল আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক বা সভা হয় সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন রোধের সচেতনতামূলক বিষয়গুলো বলতে হবে। এভাবে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সচেতনতামূলক বার্তাগুলো সাধারণ মানুষদের কাছে পৌছে দিতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা গ্রুপ ওয়ার্কের মাধ্যমে দল গঠন করে গ্রামীণ বন, পানির উৎসস্থল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করেন।