বাণিজ্যিক মন্দা কাটছে না কাপ্তাইয়েরঃ হতাশায় ব্যবসায়ীরা

॥ নূর হোসেন মামুন – কাপ্তাই ॥

২০ থেকে ২৫’বছর আগেও আর্থিক সচ্ছলতার আশায় রাঙামাটি জেলাধীন কাপ্তাইয়ে পাড়ি জমাতো দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বণিকগণ। আর্থিক উৎস মাছ, গাছ, বাঁশ ও কেপিএম’র লোকসানে গত ১’যুগের ইতিহাস টেনে দেখা গেছে, সেই আর্থিক সচ্ছলতার আশা-ই কাপ্তাই ছেড়েছে হাজারও পরিবার। প্রশাসনিক এলাকা হওয়ায় নাকে তৈল না দিয়েও স্বস্থিতে দিনানিপাত করার লোভে যারা কাপ্তাইয়ের বাণিজ্যখাতকে আকড়ে ধরে আছে তাদের সিংহভাগের সাক্ষাতকারেই মিলেছে হতাশার চিত্র। দেশের প্রতিটি সেক্টরেই যখন সফলতা ও উন্নয়নের বাস্তব সত্যতা মিলেছে তখনও কাটছেনা কাপ্তাইয়ের তালিকাভূক্ত ১১’টি বাজার ও হাট বাজারের মন্দা ভাব! সরকারের হস্তক্ষেপে কেপিএমের ঘুরে দাঁড়ানো সহ এলাকাটিতে নতুন মিল-কারখানা স্থাপন ও বিপুল পরিমানে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সহ মাছ-গাছ-বাঁশ ও আর্থিক উৎস সৃষ্টিতে বাণিজ্যখাতে সফলতা ফিরার কথাই বলছেন স্থানীয় সুশিল সমাজ।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, যুদ্ধ পরবর্তী এশিয়ার বৃহত্তম পেপার মিল ‘কর্ণফুলী পেপার মিলস্ লিমিটেড’ (কেপিএম) এর যৌবন কালীন সময়ে বাঁশ ও গাছের বাণিজ্যিক ছোঁয়ায় আর্থিক সচ্ছলতায় আলোর মুখ দেখে স্থানীয়রা। পাশাপাশি মাছ সহ নানান প্রকার প্রকৃতির উৎসে জীবন জীবিকা নির্বাহে জড়িত হাজারও জনসাধারণ। কেপিএমের কর্মব্যস্ততার আভায় স্বল্পদিনেই সুদিন ফিরে কাপ্তাইয়ে। কিন্তু ৫’সালের পর থেকেই কেপিএমের আর্থিক লোকসান, কাপ্তাই লেক খননের অভাবে মাছ বিলুপ্তি সহ নানান কারণে পাহাড়ে বাঁশ-গাছের সংকটে পর্যায়ক্রমে লোকসানের খাতা ভারি হয়ে মন্দা সৃষ্টি হতে থাকে কাপ্তাইয়ের বাণিজ্যিক খাতে।

কাপ্তাই নতুন বাজারের প্রবীন ব্যবসায়ী আবুল কাসেম বলেন, আগের মতো ব্যবসা নাই। ব্যবসায়ের খুবই খারাপ দিন যাচ্ছে। এদিকে নতুন বাজার, পুরাতন বাজার, জেটিঘাট বাজার, চিৎমরম বাজার, শিলছড়ি বাজার, বড়ইছড়ি বাজার, বারোঘোনিয়া বাজার, কলাবাগান বাজার, রাইখালী বাজার, বড়খোলা বাজার, কারিগরপাড়া বাজার ঘুরে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধীকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা হতাশার কথা। সকলেই বলছেন ব্যবসায়ের মন্দাভাবের কথা।

এদিকে পর্যটন উপশহর খ্যাত রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার সরকারি তালিকানুয়ায়ী বাজার ও হাটবাজারের মধ্যে নতুন বাজারের ৫’শ টি চান্দিনা ভিটি থেকে সরকার ইজারা মূল্য পায় ১০’লক্ষ টাকা। এছাড়া প্রজেক্টের পুরাতন বাজারের ১৫০’টি থেকে ২’লক্ষ, চিৎমরম বাজারের ১৫০’টি থেকে দেড় লক্ষ, শিলছড়ি বাজারের ৭০’টি থেকে ৭০’হাজার, বড়ইছড়ি বাজারের ১৪০’টি থেকে ২’লক্ষ, বারোঘোনিয়া বাজারের ২৫০’টি থেকে ৩’লক্ষ, কলাবাগান বাজারের ৩’শ টি থেকে ৫’লক্ষ, রাইখালী বাজারের ৫’শ টি থেকে ৭’লক্ষ, বড়খোলা বাজার ২’শ টি থেকে ১লক্ষ, কারিগরপাড়া বাজারের ৭০টি চান্দিনা ভিটি থেকে সরকার ৫০’হাজার টাকা ইজারা মূল্য পায় বলে জানা গেছে।