কর্ণফুলী কাগজ কল বাঁচাতে মানববন্ধন

॥ কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥

একসময়ের এশিয়ার বিখ্যাত সর্ববৃহৎ কাগজ কল কর্ণফুলী পেপার মিলের (কে.পি.এম) আধুনিয়কায়নের মাধ্যমে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মানববন্ধন করেছেন কারখানাটির সাবেক শ্রমিক-কর্মচারী,কর্মকর্তা ও তাঁদের সন্তানেরা। একই সাথে বেলুনে বেঁেধ আকাশে উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার সকাল ১১’টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘আসুন কেপিএম বাঁচাই’ সংগঠনের ব্যানারে এই মানবন্ধনের আয়োজন করে কে.পি.এম’র সাবেক শ্রমিক-কর্মচারী,কর্মকর্তা ও তাঁদের সন্তানেরা। ‘আসুন,কেপিএম বাচাই’ কর্মসূচীর সমন্বয়ক সাংবাদিক জালালউদ্দিন সাগর’র সঞ্চালনায় মানবন্ধনে দুইশতাধীক মানুষ অংশগ্রহন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবী করে বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত রাস্ট্রের অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াইয়ে স্বাধীনতার পর এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোষাগারে প্রায় এক হাজার চারশত কোটি টাকা রাজস্ব জমার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং কাগজের গুনগত মাণের কারনে বহিবিশে^ বাংলাদেশকে পরিচিত করেছে সম্ভাবনাময় রাস্ট্র হিসাবে। অথচ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঘোষিত ছয়দফা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি বিজরিত কর্ণফুলি কাগজ কল দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাবে বন্ধ হতে বসেছে।

কেপিএম বন্ধ হয়ে গেলে খোলাবাজারে তার বিরুপ প্রভাব পড়বে দাবী করে কেপিএম হাইস্কুল ও কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল সুবিমল চৌধুরি বলেন, সরকারী নিয়ন্ত্রাণাধীন এই কাগজ কলের কারনে ব্যক্তি মালিকানাধীন কাগজ কলের মালিকরা কাগজের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হচ্ছে। আজকে যদি কেপিএম বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কাগজের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। সে ক্ষেত্রে নিন্ম আয়ের মানুষের সন্তানদের পড়ালেখা হুমকীর মুখে পরবে।

মাকসুদুল রুমি কেপিএম বন্ধ হয়ে গেলে কারখানার নিজস্ব ও লিজপ্রাপ্ত ১,২৭,৫২৯.৬ একর ভূসম্পত্তি পুরোটাই বেদখল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দাবী করে বক্তারা আরও বলেন, সম্ভাবনাময় উর্বর এই ভূসম্পতি কাজে লাগিয়ে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে আধুনীকায়নের মাধ্যমে কেপিএমকে পুরোপুরি সচল করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ^াস করি, আপনার সরকারের ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ এর শিল্প সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে কেপিএমও হতে পারে অন্যতম অংশীদার। দক্ষ ব্যবস্থাপনায় কেপিএমকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

২০১৪ সাল থেকে কেপিএম কে পূর্ণমাত্রায় সচল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের সাথে সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংসদের কর্মকর্তা এম.আর হোসাইন জহির জানান, বাংলাদেশের কাগজের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং তিন পার্বত্য জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কেপিএমমের আধুনিকায়ন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যান্ত জরুরী। বিগত সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেপিএমের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের বিষয়ে সংসদে এবং ভিডিও কনফারেন্সে আশ্বাস দিয়েছিলেন- আমরা সেই আশ্বাসের বাস্তবাায়ন চাই।

প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে মাহবুব মজিদ সোমি বলেন, সংস্কারের নামে কেপিএম’র সাথে শুধুই মসকরা করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কার্যত কোনো সংস্কার হয় নি। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কেপিএমকে বাচানো সম্ভব বলেও দাবী ‘আসুন কেপিএম বাঁচাই’ কর্মসূচীর সংগঠকদের।

কে.পি.এম স্কুলের সাবেক ছাত্র কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, একসময়ের এশিয়ার বিখ্যাত এই কাগজ কলকে লোকসানি প্রতিষ্ঠানের তকমা দিয়ে বন্ধ করে দিতে পরিকল্পিত ভাবে কেপিএম’র দক্ষ শ্রমিক কর্মচারীদের বিসিআইসির অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলী করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কর্ণফুলী কাগজ কলকে কেন্দ্র করে তিন পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে সম্প্রীতির যে সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে সে পরিবেশ ও ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে হলেও কর্ণফুলী কাগজ কলকে বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করতে হবে।

মানববন্ধনের সমন্বয়ক সাংবাদিক জালালউদ্দিন সাগর বলেন, আমরা কোনো প্রকার আন্দোলন করতে আসি নি কিংবা দাবী নিয়েও আসি নি। আমরা এসেছি কেপিএম কে বাঁচাতে মায়ের (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কাছে ফরিয়াদ জানাতে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সক্ষমতায় আমরা পদ্মাসেতু নির্মাণ করতে পারি, দশ লক্ষ রোহিঙ্গার পেটে ভাত দিতে পারি তবে কেন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত এই কারখানাটিকে বাঁচাতে পারবো না।
[
আরে বক্তব্যের রাখেন, এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, সেলিম উল্ল্যাহ, কেপিএম হাইস্কুল ও কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল সুবিমল চৌধুরি, কেপিএম স্কুলের সাবেক ছাত্র কাজী নজরুল ইসলাম, মাকসুদুল রুমি,মাহবুব মজিদ সোমি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম,সফিউল করিম খোকন,প্রকৌশলি সেলিম উল্লাহ, প্রফেসর মো,শাহাব উদ্দিন, আহসান হাবিব শুভ্র, শাখের হোসাইন প্রমুখ।।