ব্রেকিং নিউজ

ঝুলন্ত ব্রীজের ওপারে উম্মুক্ত মাদকের হাট : দেখার কেউ নেই

॥ নাঈম ইসলাম ॥

রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র “ডিয়ার পার্ক” এখন এলাকাবাসীর কাছে মাদকের হাট হিসেবেই পরিচিত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পর্যটন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের তত্ত্বাবধায়নেই চলে রমরমা মাদক ব্যবসা। অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, বাংলা মদ (চোলাই মদ) ও গাঁজা বিকিকিনি। সেবনও সেই একই জায়গায়। এতে জেলা প্রশাসন বা আইনপ্রয়োগ কারি সংস্থার নেই কোনো অভিযান বা বিধিনিষেধ। জেলা সদরের অন্যসব স্থানে প্রশাসন ও পুলিশের অভিযানে মাদক সেবীরা দৌড়ের ওপর থাকলেও রহস্যজনক কারণে “ডিয়ার পার্ক” রয়েছে অভিযানের বাহিরে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় সময় পর্যটন কেন্দ্রে মাদক সেবীদের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছে পর্যটকরা। মাদক সেবীদের দৌরাত্ম বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন কমছে পর্যটক। জানা যায়, পর্যটনের ঝুলন্ত ব্রীজের সাথে রয়েছে বেশ কয়েকটি মাদক বিকিকিনির স্পট। সেখানে দিনের বেলা কিছুটা চুপিসারে চললেও সন্ধ্যা পর ওপেন সিক্রেট। হাত বাড়ালেই মিলছে ইায়াবা, বাংলা মদ, গাঁজা ও ফেনসিডিল। পর্যটন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের তত্ত্বাবধায়নেই এলাকার কিছু প্রভাবশালীর ছত্র ছায়ায় চলছে এই মাদক জলসা।

এলাকাবাসী জানায়, বিকাল থেকেই শুরু হয় মাদক সেবিদের উৎপাত। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় দুর্ব্যবহার আর ভাংচুর। এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল ও পর্যটন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক এই মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। ফলে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এই পর্যটন কেন্দ্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিলাইছড়ি পাড়া থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে এই পর্যটন কেন্দ্রে আসছে চোলাই মদ। কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন হাত বদল হয়ে আসছে ইয়াবা। একইভাবে আসছে গাঁজা ও ফেনসিডিল। তিনজনের একটি সিন্ডিকেট পর্যটন ডিয়ারপার্ক এলাকাসহ দেওয়ান পাড়া ও সিলেটি পাড়ায় মাদক বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণ করছে। মাদক বিক্রেতাদের একজন ডিয়ার পার্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শবর্তী চা দোকানদার মক্র মারমা। মক্র মারমার চা দোকানে অবাধেই মিলছে ইয়াবা, মদ, গাজা ও ফেনসিডিল। তবে বাংলা মদই বেচা হয় বেশি। ওই এলাকায় রয়েছে কয়েকজন ভাসমান মাদক বিক্রেতাও।

মাদক বিকিকিনি ও পর্যটন কেন্দ্রে মাদক সেবনের বিষয়ে জানতে চাইলে পর্যটন কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক (ম্যানেজার) সৃজন বিকাশ বড়–য়া বলেন, মাদক রোধ করা পুলিশের কাজ, এটা আমার দায়িত্ব না। এখানে মাদক সেবিদের উৎপাতের বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। গত আগস্টেও রাঙামাটি কোতয়ালি থানার ওসি ও এসপি অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে এখনও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

একই প্রসঙ্গে রাঙামাটির কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, পর্যটন কর্পোরেশনের ম্যানেজার সৃজন বিকাশ বড়–য়ার বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, মিথ্যা ও বানোয়াট। পর্যটন কেন্দ্রে মাদক বিকিকিনি বা মাদক সেবিদের উৎপাতের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।