আমতলী ধর্মোদয় বন বিহারে ২৬তম কঠিন চীবর দান শুরু

॥ জুরাছড়ি প্রতিনিধি ॥

জুরাছড়ি উপজেলাধীন আমতলী বন বিহারটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে। তারই ধারাবাহিকতা মধ্যে দিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে উক্ত বিহারে ২৬তম মহান কঠিন চীবর দান। কঠিন চীবর দান উপলক্ষে উদযাপন কমিটি কর্তৃক নানা কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার বিকাল ৩ ঘটিকার সময়ে বেইনঘর উদ্ধোধন করেন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ধর্মজ্যোতি মহাস্থবির। এতে বয়ন শিল্পীরা সারারাত কাপড় বুনন করে আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠানে আগত ভিক্ষু সংঘের নিকট এই কাপড়গুলো দানীয় কার্য সম্পাদন করবেন।

বিহার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি অনিল চাকমা জানান,প্রতিবছর ভিক্ষু শ্রামণদের বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা অনুষ্ঠানের পর থেকে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের উৎসব শুরু হয় মহান কঠিন চীবর দান। তাই প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর ও আমরা ২৬ তম কঠিন চীবর দান উদযাপন করতে যাচ্ছি। অনুষ্ঠান যাহাতে সুষ্টভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতা কাম্য করেন।

উদযাপন কমিটির অন্যতম দায়িকা মিসেস মিতা চাকমা বলেন, নারীরা যে সারারাত পরিশ্রম করে কাপড় তৈরী করে ভিক্ষু সংঘের নিকট দান করে থাকি তা আমরা আনন্দ এবং গর্ববোধ করি। আমরা এই অনুষ্ঠানের জন্য একমাস ব্যাপী পরিশ্রম করি সকলের সার্বিক সহযোগিতায় যারা আমাদের অনুষ্ঠানে আর্থিক,কায়িক ভাবে সহযোগিতা দিয়েছেন এবং অনুষ্ঠানটি সাফাল্য মন্ডিত করার জন্য বিভিন্ন দুরদুরান্ত থেকে এসে এই মহান পূণ্যকাজে অংশগ্রহণ করে থাকেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শিল্পী বিশ্বেশ্বর চাকমা থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিবছর আমতলী ধর্মোদয় বিহার পরিচালনা কমিটি কর্তৃক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় উদ্ধোধনী সংগীতের জন্য আমন্ত্রন করা হয়। তারই সুবাধে এদের সু শৃঙ্খল অনুষ্ঠানে দেখে আমার খুবই আনন্দ লাগে। পার্বত্য চট্রগ্রামে মহান আর্যপরুষ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে আর্বিভাবের কারণে বৌদ্ধ ধর্মালম্ভীদের মাঝে কঠিন চীবর দানের সময় সুতা থেকে কাপড় তৈরী করার জন্য দেখিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।