শিক্ষার্থীদের সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া শেখালো জীবন

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর অনাড়ম্বর আয়োজনে বিশ্বব্যাপী দিবসটি উৎযাপন করা হয়। এই দিবসটি একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা যা জনসাধারণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, রোগ প্রতিরোধ ও জীবন রক্ষার মত মৌলিক বিষয়গুলোর শিক্ষা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে হাত ধুতে পারলে ২০ ধরনের সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

এবারের জন্য দিবসটির প্রতিপাদ্য “সকলের জন্য পরিচ্ছন্ন হাত”। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে যে ব্যাপারটি তুলে ধরা হয়েছে তা হচ্ছে সকল জনসাধারণের মাঝে হাত ধোয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে দেয়া এবং তাদের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা।
মঙ্গলবার রাঙামাটি সদরের দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া শিখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে পার্বত্যাঞ্চলের সর্বপ্রথম অনলাইন ব্লাড ব্যাংক Jibon”জীবন”। সংগঠনটির ক্যাম্পাস ভিত্তিক নিয়মিত আয়োজন হ্যালো ক্যম্পাসের আওতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
সকালে তবলছড়ি এলাকায় অবস্থিত সেন্ট ট্রিজার স্কুল এন্ড কনভেন্ট এ বিশ্ব হাতধোয়া দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মনিকা গোমেজ এই কর্মসূচির উদ্ভোধন করেন। স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম এর সঞ্চালনায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপশি কর্মসূচিতে অংশ নেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীদের সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার পদ্ধতি রপ্ত করিয়েছে হ্যালো টীমের সদস্যরা।
অতপর রাঙামাটি সদরের আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাঙামাটি ইন্টারন্যাশনাল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে বিশ্ব হাতধোয়া দিবসের কার্যক্রম পরিচালনা করে হ্যালো টীম। দুই শিফটে কর্মসূচি পরিচালিত হয়। স্কুলের পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান এর উদ্ধোধনী বক্তব্য, অধ্যক্ষ শফিউল আলম চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের পরপরই সকল শিক্ষার্থীদের সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার প্রশিক্ষণ দেয় হ্যালো টীমের সদস্যরা।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজন করা হয় অভিভাবক সমাবেশ যেখানে হাত ধোয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভাপতিত্ব করেন, Jibon”জীবন” এর সহ-সভাপতি ইউনুছ সুমন। দুই শিফটে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঠিকভাবে হাত ধোয়ার কৌশল শিখানো হয়।
সঠিকভাবে হাত ধোয়ার কিছু নিয়ম আছে। শুধু পানি দিয়ে হাত ধুলে বাহ্যিকভাবে পরিষ্কার হয় সত্যি, কিন্তু জীবাণুমুক্ত হয় না। জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর হচ্ছে সাবান, লিকুইড সোপ ও হ্যান্ড রাব কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার। হাসপাতাল ছাড়া সাধারণ গৃহস্থালী, অফিস-আদালতে হাত জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য সাবান বা লিকুইড সোপ দিয়ে হাত ধুলেই চলে। লিকুইড সোপ নিলে প্রতিবার হাত ধোয়ার সময় অন্তত ৩ মিলিলিটার নেয়া উচিত। প্রথমে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে হাত ভিজিয়ে এরপর সাবান বা লিকুইড সোপ হাতের কব্জি পর্যন্ত মাখানো উচিত। এরপর হাতের উভয় পাশে, আঙ্গুলের ফাঁকে, নখের চারপাশে ও ভেতরে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড ঘষা উচিত। এরপর পানির স্রোতধারায় (জমানো পানির চেয়ে প্রবহমান পানি বেশি কার্যকর) হাত দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা উচিত। শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার কৌশল শিখাতে সহায়তা করেছে হ্যালো টীমের সদস্য হীরা চাকমা, পলি ত্রিপুরা, শিমলা রশিদ, ফয়সাল মাহমুদ, শুভ মন্ডল, শাহাবুল ইসলাম, পার্থ চৌধুরী, হাসান মল্লিক, তুরাগ হোসেন,
সুবর্ণ বড়ুয়া ও তাহসিন হোসাইন কবির। অপরাজিতা টীমের পক্ষ থেকে মানিহা ইসলাম নীপা, বাবলি আক্তার, শাহিনূর আক্তার।
Jibon”জীবন” এর সাধারণ সম্পাদক সাজিদ-বিন-জাহিদ (মিকি) বলেন, হাত ধোয়ার যে নিয়ম তা অনেকেই জানেন না, অনেকে তাড়াহুড়ো করে সঠিক নিয়ম মেনে হাত ধৌত করেন না। ফলে নানাভাবে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে যান। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে। আমাদের নিয়মিত আয়োজন হ্যালো ক্যাম্পাসের আওতায় আজকে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে রাঙামাটি সদরের দুইটি স্কুলে এই আয়োজন। দিবসের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে আমরা আরো কিছু বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতা বৃদ্ধি করে থাকি।
Jibon”জীবন” এর সমন্বয়ক মোবারক হোসেন রানা বলেন, আমাদের সবার উচিত প্রতিদিন সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া ও অন্যদেরও হাত ধোয়ায় উৎসাহিত করা। এতে করে অনেক বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় থেকে আমরা খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারি। সাধারণ বিষয়টির মাঝে আমাদের জন্য অসাধারণ উপকার আছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে Jibon”জীবন” এর সদস্যদের পাশাপাশি অপরাজিতা ও Jibon”জীবন” রাবিপ্রবি ইউনিট এর সদস্য তাওহীদুর রহমান, বিথী ত্রিপুরা, সাইদা জান্নাত ও ধীমান সরকার অংশগ্রহণ করেন।
বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী দেশ সেরা সংগঠন প্রতিনিয়ত অবদান রেখে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য সচেতন হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে আরো একটি মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললো সংগঠনটি।