নাইক্ষ্যংছড়িতে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর হার!

॥ নুরুল কবির – বান্দরবান ॥

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তিনটি ইউনিযন পরিষদ নির্বাচনে ২টিতে নৌকা ও একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারীভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষনা করেছেন। এরা হলেন ঘুমধুমে আওয়ামীলীগ প্রার্থী একে এম জাহাঙ্গীর আজিজ সোনাইছড়িতে নৌকার প্রার্থী এ্যানিং মার্মা ও নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা নুরুল আবসার ইমন।

দুই ইউনিয়নে নৌকার জয় হলেও সদরে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর হারের কারণ হিসেবে নেতাকর্মীরা অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক শফি উল্লাহর দিকে। সরকার ক্ষমতায় গত বছর দুই বছর চেয়ারম্যান থাকা সত্ত্বেও সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল কেন হেরে গেলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বলছেন আওয়ামীলীগ সভাপতি অধ্যাপক শফি উল্লাহ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তেমন একটা প্রচারনা চালায়নি তাছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী ইমন সভাপতির আপন খালাতো ভাই হওয়ায় তার পক্ষে গোপনে ভোটও চেয়েছেন আওয়ামীলীগ সভাপতি এমন অভিযোগও তুলেছেন নাইক্ষংছড়ি আওয়ামী লীগ নেতারা। এছাড়া তসলিম ইকবালের ছোট ভাই ফাহিম ইকবাল নিজের ভাই চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করায় দলীয় অনেক নেতাকর্মীর সাথে কোন্দল সৃষ্টি হয় যার ফলে নির্বাচনে অনেক নেতাকর্মীও ক্ষোভের বশে তসলিম ইকবালের বিরোধিতা করে।

তাছাড়া দীর্ঘদিন দলের সাধারণ সম্পাদক ও বিগত দুই বছর চেয়ারম্যান থাকার দরুন তসলিম ইকবাল নাইক্ষ্যংছড়িতে একটি বলয় সৃষ্টি করেন এতে করে তার অনুসারীরা জোরপূর্বক মানুষের জায়গা দখল টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্ম সনদ প্রদানসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে এর ফলে নির্বাচনের কিছুদিন আগে একটি মামলায় তিনি কারা বাসও করেন। তবে দলের উপর মহলের কয়েকজন নেতা বলছেন তসলিম ইকবাল যদি এবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতেন তাহলে তিনি ভবিষ্যতে উপজেলা চেয়ারম্যানের নমিনেশন চাইতেন তাই উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বর্তমান উপজেলার চেয়ারম্যান শফি উল্লাহ চায়নি তসলিম জয়লাভ করুক। তাই নেতাকর্মীদের অভিযোগ দলীয় সভাপতির নিস্কৃয়তা ও অবহেলার কারনেই সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী তসলিম ইকবাল হেরেছে।

উল্লেখ্য গতকাল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তিনটি ইউপিতে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয় সোনাইছড়ি ও সদর ইউপিতে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হলেও ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ফাত্রাঝিরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জালভােট দেয়াকে কেন্দ্র করে মেম্বার প্রার্থী আজমত আলী ও বাবুল কান্তি তংচঙ্গ্যার সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্রের সামনে বাকবিতন্ডা ও মারামারি হয়। এসময় পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কেন্দ্রের পাশে নিয়োজিত বিজিবির সদস্যরা গুলি ছুড়ে এতে বাবুল কান্তি তংচঙ্গ্যার সমর্থক মং ক্য ছা তঞ্চঙ্গা (৪৫) ও অংচাই মং তংচঙ্গ্যা (৫৫), নামে দুজন নিহত হয়। এদিকে ঘটনার পর নাইক্ষংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এর আশপাশের চরম আতংক বিরাজ করছে।