পাহাড়ে নির্বিচারে খুন-চাঁদাবাজি বন্ধে প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্পের স্থানে পুলিশ-বিজিবি’র ক্যাম্প স্থাপন করা হবে:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

॥ আলমগীর মানিক ॥

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান পাহাড়ি আঞ্চলিকদলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে যা যা করনীয় তার সবটুকুই করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। পার্বত্য শান্তিচুক্তির আলোকে পাহাড় থেকে প্রত্যাকৃত সেনাক্যাম্পগুলোর স্থানে পুলিশের একটি পাশাপাশি বিজিবি’র ক্যাম্প অথবা প্রয়োজনে দুইটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন আমি এখানকার বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের চলমান তৎপরতার তথ্য শুনে অবাক হয়েছি। আমরা দীর্ঘক্ষন মিটিং করলাম।

যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি শৃঙ্খলায় নিয়োজিত রয়েছেন তাদের থেকে শুনছিলাম আমাদের দুর্বলতা কোথায়? সন্ত্রাসীরা কোথা থেকে সাহায্য পায়, কিভাবে বিচরণ করে। কিভাবে এই এলাকায় নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে তার-ই একটা ইতিহাস শুনছিলাম। এটি শুনে ব্যাথিত হয়েছি আমি। দীর্ঘক্ষন আলাপের প্রেক্ষিতে আমাদের দুর্বলতা গুলো আমরা জেনে নিয়েছি। আমাদের পুলিশ, র‌্যাব, বিজেবি, আনসারের সব প্রধানগণ এবং সেনাবাহিনীর যারা এখানে দায়িত্ব পালন করছেন তারাসহ গোয়েন্দা সংস্থারাও এখানে উপস্থিত ছিলেন।

আমরা মনে করি এই ধরনের ঘটনা যদি ঘটতে থাকে তাহলে আমাদের এই জায়গাটিতে শান্তির যে সুবাতাস বইছিলো আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে এখানে একটি শান্তিচুক্তি করে যে শান্তির সুবাতাস নিয়ে এসেছিলো সেটা হয়তো বিনষ্ট হবে। এটা আমরা কখনো হতে দেবো না। শান্তিচুক্তিকে ফলো করে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল, আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, হেলিকপ্টার, উন্নতমানের জলযানসহ যা যা দরকার তার সবটুকুই প্রদান করা হবে। দু’দিনের সফরে রাঙামাটিতে এসে বুধবার বিকেলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রী।

১৯৯৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা শান্তিচুক্তি করে যে শান্তির সুবাতাস বইয়ে এনেছিলো সেই শান্তির সুবাতাস ধরে রাখার জন্যই আজকে অত্রাঞ্চলে কর্মরত অফিসারদের নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পাহাড়ের স্থানীয় মানুষজন অত্যন্ত ভাতৃপ্রিয় মানুষ, এই ভাতৃত্ববোধ রক্ষায় বাধাদানকারি তথা শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে যা-যা করনীয় তার সবটুকুই করবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর প্রধানগণ, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ডিভিশনের জিওসি, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ তিন ঘন্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক পরবর্তী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

এসময় মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে রক্তপাত, খুন, চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে যা যা করার প্রয়োজন সবই করা হবে। সম্প্রীতির মাধ্যমে পাহাড়ী, বাঙ্গালীর ভ্রাতৃত্ববোধ, শান্তি ফিরে আনতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশ ও বিজিবি’কে হেলিকপ্টারসহ উন্নতমানের সকল প্রকার যানবাহন কিনে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই আমরা পাহাড়ের বিরাজমান সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের গতি বাড়ানোর নির্দেশনা প্রদান করেছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সহযােগিতায় জেলা প্রশাসক মিলনায়তনে একথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সভাপতিত্বে সভায়। পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং এমপি, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব সুদত্ত চাকমা,বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মোঃ জাবেদ পাটোয়ারী, স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মেদ, চট্টগ্রাম বিভাগের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো: শাফিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ।

এছাড়াও সভায় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারগণসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় শুরু হওয়া আইন শৃংখলা সভা রাত ১০ ঘটিকায় শেষ হয়। এরআগে বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ির রামগড়ে নবনির্মিত থানা ও চারতলা ব্যারাক ভবনের উদ্বোধন করে বিকেল সোয়া চারটার সময় রাঙামাটিস্থ বিজিবি সেক্টর মাঠে হেলিযোগে অবতরণ করেন মন্ত্রী। প্রশাসনসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় করে অত্রাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কি কি করনীয় তা শুনবেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর তথ্য জানাবেন।

facebook.com/1495492424036401/videos/907116683004246/