পাহাড়ে খুন-চাঁদাবাজিসহ রক্ত ঝরানো সন্ত্রাসীদের জন্য ভয়ঙ্কর দিন আসছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী(ভিডিও)

॥ আলমগীর মানিক-হৃদয় ॥

পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত অস্ত্রধারী পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও তাদের মদদদাতাদের শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পাহাড়ে যারা চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ, রাহাজানিসহ অযথা রক্তপাত করছেন তাদের জন্য সামনে ভয়ঙ্কর দিন আসতেছে। কোথাও গিয়ে রেহাই পাওয়া যাবে না।

পার্বত্যাঞ্চলের সন্ত্রাসীরা ও তাদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করে শীঘ্রই বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে আয়োজিত “তিন পার্বত্য জেলার আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি’র সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, সরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মোঃ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহাম্মেদ, বিজিবি’র মহা-পরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুর ইসলাম, আনসার ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদসহ তিন পার্বত্য জেলার সার্কেল চীফগণ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগন, হেডম্যান কার্বারী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্যের সময় পাহাড়ের আঞ্চলিকদলগুলোর নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কাজেই কেউ যদি মনে করেন, আর চিন্তা করেন, ঘরে বসে বসে আপনারা পাহাড়ের দুস্কৃতিকারি আর অস্ত্রবাজদের লেলিয়ে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অচল করবেন? এমন স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে, কখনোই বাস্তবায়ন হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এখানে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় হতে দিচ্ছে না, এটা কার স্বার্থে বাধা দেওয়া হচ্ছে এটা আমরা জানতে চাই। মুষ্টিমেয় কয়েকজনের স্বার্থে এই অঞ্চলের মানুষ অন্ধকারে থাকবে, এলাকার লোকজন নাখেয়ে থাকবে? এটা অবিশ্বাস্য, এটা হতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের লোকজন সুখে শান্তিতে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করার কথা, অথচ পাহাড়ের লোকজন বর্তমানে অস্ত্রধারিদের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা পার্বত্য জনপদের বাসিন্দাদের আশ্বস্থ করছি, আমরা বর্তমানে সন্ত্রাসীদের দমনে অনেকখানি সক্ষম, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, আমাদের সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, আমরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম।

পাহাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি সরকার ধৈয্য সহকারে মোকাবেলা করছি বলেই, পার্বত্যাঞ্চলের সন্ত্রাসীদের নির্মূলে সরকার অক্ষম এটা মনে করার কোনো কারন নেই মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন শীঘ্রই আমরা পাহাড়ের বিরাজমান চিত্র এখানকার বাসিন্দাদের মতামতগুরো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবো। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা অবশ্যই পাহাড়ের জনগণকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে পারবো।

এদিকে আলোচনা সভায় পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের এই আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমাকে চিঠির মাধ্যমে এবং মুঠোফোনে দাওয়াত দেওয়া হলেও তিনি আসতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এসময় তাকে তার একজন প্রতিনিধি প্রেরণেরও অনুরোধ জানিয়েছিলো সচিব। কিন্তু আঞ্চলিক পরিষদের কোনো প্রতিনিধিকেও পার্বত্য চট্টগ্রামের এই বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা সভায় পাঠানো হয়নি।

এরআগে বুধবার বিকেলে রাঙামাটিতে এসে সন্ধ্যা পৌনে সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বাহিনীগুলোসহ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিবর্গ ও প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

পাহাড়ে খুন-চাঁদাবাজিসহ রক্ত ঝরানো সন্ত্রাসীদের জন্য ভয়ঙ্কর দিন আসছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাহাড়ে খুন-চাঁদাবাজিসহ রক্ত ঝরানো সন্ত্রাসীদের জন্য ভয়ঙ্কর দিন আসছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী(ভিডিও) http://www.chttimes24.com/archives/70466

Posted by ChtTimes24.com on Thursday, 17 October 2019