রাঙ্গামাটিতে জাতীয় বধির দিবস পালিত

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

জাতীয় বধির দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাঙ্গামাটি বধির কল্যান সমিতির আয়োজনে রাঙ্গামাটিতে জাতীয় বধির দিবসের র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা সম্মেলন কক্ষে জাতীয় বধির দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, পৌর সভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীন।

উক্ত অনুষ্টানে রাঙ্গামাটি বধির কল্যান সমিতির সভাপতি কানু দাশ গুপ্তের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার উর্বশী দেওয়ান, সমাজ সেবক কাজল কান্তি দাশ, বধির সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরীসহ বধির কল্যান সমিতির সদস্যগন এসময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, শাপলা নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নিবার্হী পরিচালক মোঃ নাছির উদ্দিন। সাংকেতিক ভাষা পরিচালনা করেন, শাপলা তাঁত প্রকল্পের ম্যানেজার হাছিনা বেগম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৌর সভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীন বলেন, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় শ্রবণ-বাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করতে না পারলে তাদের উন্নয়ন যেমন সম্ভব নয় তেমনি সম্ভব নয় দেশের সার্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে ও কল্যাণে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরো বলেন, শ্রবন-বাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অক্ষম নই। যথোপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে বধিররাও পারে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে। শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা যুগযুগ ধরে অবহেলার শিকার। তাই তারা সবকিছুতেই সবার পেছনে। উপযুক্ত চিকিৎসা, ক্রীড়া, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাবে তাদের অধিকাংশই মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হয়। এসব অসহায় অবহেলিত মানব সন্তানদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে তাদের স্বনির্ভর করার জন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কর্মমুখি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান। তাই শ্রবন-বাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে সমাজে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর হয় তার জন্য সমাজের সকলকে সহযোগিতার হাত প্রশারিত করতে হবে।
এর আগে জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে শহরে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি জেলা ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর সভা প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।