হোটেল আল-হাসানের মালিক কর্তৃক টাকা চুরির অভিযোগঃ কাষ্টমারকে মারধর!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটি শহরে আবাসিক হোটেল মালিক কর্তৃক মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন ক্ষুদ্র এক ব্যবসায়ি। ছেঁড়া টাকা ক্রয় করে সেগুলো চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে বিক্রির ব্যবসা করেন কুমিল্লা চৌদ্দ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ইলিয়াছ(৩০)। গত শনিবার ব্যবসার কাজে রাঙামাটি এসে শহরের পুরাতন বাস স্টেশনের আল-হাসান আবাসিক হোটেলে রুম ভাড়ায় উঠেন। ২০৯ নাম্বার রুমে তাকে থাকতে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। ইলিয়াছ জানান, পরদিন তিনি গোসল করতে চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষ তাকে অন্য আরেকটি রুমে গোসল করতে পাঠায়। এই সুযোগে তার রুমে রক্ষিত ৬১ হাজার টাকার নোট হাতিয়ে নেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা আমাকে গামছায় মোড়ানো সামান্য কিছু টাকা(প্রায় ১০ হাজার টাকার মতো) ফেরত দেয়। এসময় আমি আমার ৬১ হাজার টাকা খোয়া গেছে জানালে হোটেল মালিক সেলিম থানায় খবর দিয়ে পুলিশ নিয়ে আসে। পরে পুলিশকে আমি বিষয়টি বুঝিয়ে বলি এবং আমি যে সকল দোকানগুলো থেকে ছেড়া ফাটা নোটগুলো ক্রয় করেছি তাদের ঠিকানা প্রদান করি। আমার কথার সত্যতা পেয়ে পুলিশ হোটেল মালিককে আটক করে। পরে আরো কিছু লোকজনসহ হোটেল মালিক আমাকে আমার খোয়া যাওয়া টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে থানা থেকে চলে আসে। রাতের বেলায় আমাকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলায় আমি ভয় পেয়ে যাই।

ইলিয়াছ প্রতিবেদককে জানান, রাঙামাটি একটি পর্যটন শহর এবং হোটেলগুলোও নিরাপদ থাকবে, এমন প্রত্যাশায় শনিবার আমি শহরের মধ্যখানেই দোয়েল চত্বরে আল-হাসানে রুম ভাড়া নিয়েছিলাম। বিকেলের মধ্যে আমি বনরূপা বাজার থেকে দোকানে দোকানে হেটে হেটে সর্বমোট ৬১ হাজার টাকার ছিড়া-ফাটা নোট ক্রয় করে হোটেলে এসে ২০৯ নাম্বার রুমের বেডের নীচে সেগুলো রাখি। কিন্তু হোটেল মালিক আমার রুমের আমার ব্যক্তিগত তালা ভেঙ্গে আমার টাকাগুলো নিয়ে নেয়। পরে আমার টাকাগুলো পাওয়া যাচ্ছেনা জানালে হোটেল মালিক আমাকে থাপ্পর মারে এবং পুলিশকে ডেকে এনে আমাকে ধরিয়ে দেয়। পরে আমি বিষয়টি পুলিশকে বুঝিয়ে বললে তারা আমার তথ্যের সত্যতা পেয়ে হোটেল মালিক সেলিমকে আটক করেছিলো। কিন্তু পরে রাতের বেলায় ছেড়ে দেয়। হোটেল মালিকসহ তার লোকজন আমাকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানীর কথা বলে আমাকে ৬১ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ২৫ হাজার টাকা দিয়ে রাঙামাটি ছাড়তে বলে দেয়। আমি ভয়ে বাড়িতে চলে আসি।

এদিকে হোটেল মালিক সেলিম জানিয়েছেন, ঘটনাটি আমার হাতে ঘটেনি এবং আমি জানিওনা। তারপরেও মামলার ভয়ে আমি তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি।

এদিকে কোতয়ালী থানার এসআই মাহির উদ্দিন জানিয়েছেন, উভয়েই সমঝোতায় গেছে মর্মে বিষয়টি তারা নিজেরাই শেষ করে ফেলবে বলে আমাদেরকে জানালে আমরা তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি।

উল্লেখ্য, এরআগেও রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্টের একটি টিম উক্ত আল হাসান হোটেলে অভিযান পরিচালনা করেছিলো। সেসময় হোটেলটির রুমগুলোতে মাদক সেবনসহ অভ্যন্তরের খাবার হোটেলটিতে নোংরা পরিবেশ ও খাবারে মেশানো কেমিক্যাল উদ্ধার করে তাকে আর্থিক দন্ডে দন্ডিত করেছিলো মোবাইল কোর্ট কর্তৃপক্ষ।