বান্দরবান হাসপাতালের আধাপাকা টিন শেড রান্না ঘর ও গ্যারেজ নির্মান করতে কোটি টাকা!

॥ নুরুল কবির – বান্দরবান ॥

বান্দরবান সদর হাসপাতালে রোগীদের জন্য অস্থায়ী রান্নাঘর ও গাড়ীর গ্যারেজ নির্মাণের নামে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাধানে বান্দরবান সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন ভবন নির্মানের জন্য পুরাতন রান্নাঘর ও গাড়ীর গ্যারেজ ভেঙ্গে ফেলায় অস্থায়ী ভাবে নতুন করে কোটি টাকা বরাদ্দে রান্নাঘর ও গ্যারেজ নির্মাণের কাজে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বান্দরবান সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরনের লক্ষ্যে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ভেঙ্গে ফেলা হয় হাসপাতালের রান্নাঘর ও গাড়ী রাখার গ্যারেজ। পরে অস্থায়ীভাবে রান্নাঘর ও গ্যারেজ নির্মাণের জন্য কোটি টাকার অপারেশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট ওপিআই টেন্ডার দেয় গণপূর্ত বিভাগ। হাসপাতাল নির্মানের ঠিকাদার রয়েল এ্যাসোসিয়েট ফাইভ পার্সেন্ট লেসে ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে রান্নাঘর নির্মান এবং ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্যারেজ ও সিকিউরিটি গেইট নির্মাণের কাজটি সমাপ্ত করেন। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ১৭ ফিট বাই ৩৬ ফিট আধা পাকা টিন শেড রান্না ঘর ও ১৫ ফিট বাই ২৮ ফিট একটি আধা পাকা টিন শেড গ্যারেজ এবং ২৮ফিট লম্বা ৮ফিট উচ্চতার লোহার গ্রিলের সিকিউরিটি গেইট নির্মান করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেছেন, কাজ গুলোর মান খুবই নি¤œমানের যে রান্নাঘর ও গ্যারেজটি তৈরী করা হয়েছে তাতে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার বেশী খরচ হওয়ার কথা নয়। টেন্ডারের মূল কাজে যে টাকা খরচ হয়েছে রিপেয়ারিং এর কাজে তো তার বেশী খরচ হবে না। এ কাজের জন্য এতো টাকার টেন্ডার সরকারের টাকার অপচয় ছাড়া কিছু নয়।

এবিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান বলেন, দুইটি টেন্ডারে ৫০ লাখ করে রান্নাঘর এবং গ্যারেজ ও সিকিউরিটি গেইটের কথা উল্লেখ থাকলেও হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করা হয়েছে। টেন্ডারে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাহিদামত হাসপাতালের সৌন্দর্যকরন ডাক্তারদের আবাসিক কোয়াটারের বিভিন্ন রিপেয়ারিং কাজ বাউন্ডারি ওয়াল সম্প্রসারনের কাজ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৭০ভাগ বিলও উত্তোলন করে নিয়েছে ঠিকাদার কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপ্ক্ষকে কাজটি এখনো বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ জানায় ইতোমধ্যে কাজটি বুঝে নেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে তাদেরকে কাজগুলো বুঝিয়ে দেয়া হবে।

সদর হাসপাতালে তত্ত্বাধায়ক সিভিল সার্জন ডাক্তার অংশৈ প্রু মারমা বলেন, এ রান্নাঘর ও গ্যারেজের নামে কত টাকা টেন্ডার এবং কি কি কাজ রয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না তবে হাসপাতালের নতুন ভবনের জন্য পুরাতন রান্নাঘর ও গ্যারেজ ভেঙ্গে ফেলায় তারা নতুন করে সেগুলো তৈরী করে দিয়েছে এবং কিছু কিছু জায়গায় তারা রিপেয়ারিং এর কাজ ও করেছে তবে এগুলো টেন্ডার এর কাজ কিনা আমি সেটি জানি না। আমরা কাজ এখনো বুঝে পায়নি।