প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজে অগ্রগতি নেই নাইক্ষ্যংছড়ির ফারিখাল রাবার ড্যামের

॥ নুরুল কবির – বান্দরবান ॥

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী রাজঘাট রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ হয়নি অর্ধেকও। ঢিলেতালে কাজ চলায় খালের পানি ¯্রােতে বিলীন হচ্ছে সড়ক, বাড়িঘর ও কৃষি জমি। বর্তমানে খালের দুই পাড় কেটে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই অবস্থায় রাবার ড্যামের কাজ দ্রুত শেষ করে এলাকার অস্তি¡ত্ব রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।

সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিযনের রাজঘাট এলাকায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে ৩ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫ শ ৮৩ দিন মেয়াদে এই রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বাংলদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বি.এ.ডি.সি) প্রকল্পের আওতায় কাজটি পান ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়েল এটেসি জেবি। দুই বছরের মধ্যে এই কাজটি সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সময় বৃদ্ধি করেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ফারিখালের উপর রাবার ড্যাম নির্মাণ করার জন্য খালের দুই পাড় কেটে কাজ বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছে সথানীয় বাসিন্দারা। গত বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঢলে বণ্যার পানিতে খালের দুই পাড়ে তীব্র ভাঙ্গনে শতাধিক বাড়িঘরসহ, চলাচলের রাস্তা ও বেশ কিছু কৃষি জমি বিলীন হয়ে যায় খালের মধ্যে। যার ফলে প্রায় ৩ শত পরিবারের ২ হাজার জনসাধারনের বর্তমানে বসবাস করছে চরম ঝুঁকি নিয়ে।

বাইশারী রাজঘাট এলাকার বাসিন্দা মহরম আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এখানে মাটি কেটে সবকিছু এলোমেলো করে ফেলেছে। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় আমরা চরম দুর্ভোগে রয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মো: আব্দুল হামিদ বলেন- এই ড্যাম এখন আমাদের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। যখন এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় তখন আশা করেছি আমরা এর সুফল পাবো, কিন্তু বিগত কয়েক বছর আমরা কষ্ট পাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, ঠিকাদার কাজ শেষ করছেনা আর এতে খালের দুপাড়ের মাটি ভেঙ্গে যাচ্ছে, কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং সড়ক ভেঙ্গে খালে চলে যাচ্ছে।

কিন্তু গত দুই বছরে শুধু মাত্র খালের গভীরের অংশে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে যা বর্তমানে মাটিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করা না হলে আগামী বর্ষায় আরো বাড়ী ঘর, রাস্তাঘাট ও কৃষি জমি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংখা করছে স্থানীয়রা।

বিষয়টি বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন- আমরা পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুরের কাছে গিয়ে ফারিখালের উপর একটি রাবার ড্যাম নির্মান করার জন্য আবেদন করেছিলাম। সে মোতাবেক দরপত্র হয়ে কাজ শুরু করে ঠিকাদাররা, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে।

এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইট প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার বিজয় ধর জানান- বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বি.এ.ডি.সি) পয়ষট্টি ভাগ কাজ শেষ করার পরও বিল দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। আর তাই কাজ চালিয়ে নিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বি.এ.ডি.সি সার্বিক সহযোগিতা না করায় এই রাবার ড্যাম প্রকল্পের কাজ সঠিক সময়ে করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বি.এ.ডি.সি) ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী বিধু ভুষন তালুকদার জানান, সিডিউল মোতাবেক ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে এই কাজ শুরু হয় এবং ২০১৯ সালের জুন মাসের ২৭ তারিখ এই কাজ সমাপ্তি হওয়ার কথা, কিন্তু সঠিক সময়ে কাজ করতে না পারায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত কাজের সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাজের সমাপ্তি হয়নি। উল্টো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অসযোগিতার অভিযোগ এনে (বি.এ.ডি.সি)’র বিরুদ্ধে মামলা করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়েল এটেসি জেবি।

এদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাজঘাট এলাকায় বাসিন্দারা ফারিখালের তীব্র ভাঙ্গন রোগে দ্রুত সময়ে রাবার ড্যামের কাজ শেষ করার জন্য যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কমনা করেছে।